ইউরোপীয় খরগোশ কোথা থেকে এসেছে?
ইউরোপীয় খরগোশ এসেছে আইবেরীয় উপদ্বীপ আর দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্স থেকে। মানুষ সেখান থেকে একে নিয়ে গেছে ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া আর আরও শত শত জায়গায়, আর পোষা খরগোশের প্রতিটি জাত এই একটিমাত্র বুনো প্রজাতিরই বংশধর।
আইবেরিয়ার আদি বাসিন্দা
আজকের প্রজাতি Oryctolagus cuniculus-এর প্রাচীনতম জীবাশ্ম প্রায় 600,000 বছরের পুরোনো, পাওয়া গেছে দক্ষিণ স্পেনে, আর গ্রানাদায় পাওয়া এর গণের প্রথম জীবাশ্মের বয়স 6 মিলিয়ন বছর। কয়েকটি আত্মীয় প্রজাতির মধ্যে কেবল এই খরগোশই টিকে ছিল শেষ প্লাইস্টোসিন পর্যন্ত, যখন এটি আইবেরিয়া থেকে ভূমধ্যসাগরের চারপাশে আর উত্তর ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ে। আজ এর আদি বিস্তার স্পেন, পর্তুগাল আর দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্স, যেখানে আইবেরীয় লিংক্স আর স্প্যানিশ ইম্পেরিয়াল ঈগল খাবারের জন্য এর ওপর নির্ভর করে।
মানুষের হাতে ছড়ানো
রোমানরা খরগোশকে আইবেরিয়ার সঙ্গে জুড়ত: সম্রাট হাদ্রিয়ানের মুদ্রায় হিস্পানিয়ার পায়ের কাছে দেখা যায় একটি খরগোশ। বালেয়ারিক দ্বীপপুঞ্জে নিয়ে যাওয়া খরগোশ এত দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে যে স্ট্রাবোর বিবরণে তাদের গর্ত ঘরবাড়ি আর গাছ উল্টে দিয়েছিল, আর প্লিনি দ্য এল্ডার লেখেন, দ্বীপবাসীরা এদের বিরুদ্ধে সম্রাট অগাস্টাসের কাছে সামরিক সাহায্য ভিক্ষা করেছিল। মধ্যযুগ থেকে মঠ, নরম্যান ডিউক আর রাজারা খরগোশ ছড়িয়ে দেন ইউরোপজুড়ে, আর স্প্যানিশ ও পর্তুগিজ জাহাজ এদের নিয়ে যায় ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ আর আজোরেসে।
কেন বলা হয় অস্ট্রেলিয়া
অস্ট্রেলিয়া তার খরগোশের জন্য বিখ্যাত, কিন্তু সেখানে এরা নবাগত। 1788 সালে ফার্স্ট ফ্লিটের সঙ্গে আসে পাঁচটি পোষা খরগোশ; উপদ্রব শুরু হয় পরে। 1859 সালের 6 অক্টোবর উইলিয়াম অস্টিন ইংল্যান্ডের সমারসেটের বাল্টনসবরোতে পরিবারের জমিতে ধরা বুনো খরগোশ, কিছু পোষা খরগোশসহ, লাইটনিং জাহাজে তুলে দেন। বড়দিনে 24টি খরগোশ পৌঁছায় মেলবোর্নে, গন্তব্য ভিক্টোরিয়ায় তাঁর ভাই টমাসের এস্টেট বারওয়ন পার্ক, যেখানে শিকারি দলের নিশানা হিসেবে এদের ছেড়ে দেওয়া হয়। 50 বছরের মধ্যে এদের বংশধরেরা ছড়িয়ে পড়ে গোটা মহাদেশে।
সূত্র: en.wikipedia.org › European rabbit ↗ · sciencedaily.com ↗ · en.wikipedia.org › Thomas Austin (pastoralist) ↗ · perseus.tufts.edu ↗