ওট মিল্ক কোথা থেকে এসেছে?
আজ দোকানে বিক্রি হওয়া ওট মিল্ক এসেছে দক্ষিণ সুইডেনের লুন্ড থেকে। খাদ্যবিজ্ঞানী রিকার্ড ওস্তে 1990-এর দশকের গোড়ায় লুন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে এটি তৈরি করেন, আর তাঁর পানীয়টি ছিল বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি হওয়া একেবারে প্রথম দিকের ওট মিল্কগুলোর একটি।
লুন্ডের গবেষণাগারে এক প্রশ্ন
1990-এর দশকে রিকার্ড ওস্তে আর লুন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি দল একটি ব্যবহারিক প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে নামেন: ওট কি গরুর দুধের বিকল্প হতে পারে? ওস্তে গবেষণা করছিলেন ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা আর টেকসই খাদ্যব্যবস্থা নিয়ে। ওটের পানীয় নতুন কিছু ছিল না, এর উল্লেখ মেলে 18 শতক থেকেই, কিন্তু দোকানে বিক্রির জন্য ওট মিল্ক ছিল নতুন। প্রক্রিয়াটির পেটেন্ট হয় 1993 সালে, আর 1994 সালে ওস্তে ও বিজ্ঞানী আনগেলিকি ত্রিয়ান্তাফিলু মিলে এটি তৈরির জন্য একটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন।
ওট যেভাবে দুধ হয়
কাঁচা ওট সোজা ব্লেন্ড করে দুধ বানানো যায় না, কারণ আগে এর শক্ত বাইরের খোসা ভাঙতে হয়। দানাগুলো গুঁড়ো করে গরম জলে নেড়ে পিষে তৈরি হয় এক ঘন মণ্ড। এরপর এনজাইম আর তাপ সেই মণ্ডকে পরিণত করে ঘন তরল ওট বেসে, যা থিতিয়ে ঢেলে নিয়ে, ছেঁকে বা ঘুরিয়ে কঠিন অংশ থেকে আলাদা করা হয়। শেষে মেশানো হয় ভিটামিন, খনিজ, তেল, লবণ বা স্বাদ-উপকরণ। পরিবর্তিত সয়া দুধের যন্ত্রে তৈরি প্রথম দিকের সংস্করণগুলোকে শিল্পের কেউ কেউ ‘অপেয়’ বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন।
কেন বলা হয় যুক্তরাষ্ট্র
ওট মিল্কের বড় উত্থান আসে পরে, আর তার অনেকটাই ঘটে আমেরিকায়। চাহিদা এত বেশি ছিল যে 2018 সালে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার দোকানগুলোতে টান পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রে খুচরা বিক্রি 2017 সালের 4.4 মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে 2019 সালে হয় 29 মিলিয়ন ডলার আর 2020 সালে 213 মিলিয়ন ডলার, যখন ওট মিল্ক সেখানে কাঠবাদামের দুধের পরেই দ্বিতীয় জনপ্রিয় উদ্ভিজ্জ দুধ হয়ে ওঠে। কফিশপগুলোও সাহায্য করেছে, কারণ ওট মিল্ক অনেকটা গরুর দুধের মতোই ফেনা তোলে আর কফিতে মিশে যায়। তবে পানীয়টি নিজে সুইডিশ।
সূত্র: en.wikipedia.org ↗ · epo.org › angeliki triantafyllou ↗ · epo.org › 1362815 ↗