
বেরেট কোথা থেকে এসেছে?
বেরেট এসেছে পশ্চিম পিরেনিজ থেকে, ফ্রান্স আর স্পেনের মাঝের পর্বতমালা থেকে। সৈনিক, চিত্রশিল্পী আর ফ্যাশন ডিজাইনাররা একে ফ্রান্সের প্রতীক বানানোর অনেক আগে এটি ছিল সেখানকার রাখালদের রোজকার পশমি টুপি।
রাখালের টুপি
বাস্ক ধাঁচের বেরেট ছিল পিরেনিজের স্প্যানিশ দিকের আনসো আর রনকাল উপত্যকার রাখালদের প্রথাগত টুপি, আর ফরাসি দিকের বেয়ার্নজুড়েও রাখাল ও কৃষকেরা এটি পরতেন। ফেল্ট করা পশম তাঁদের গরম রাখত, আর বাতাস, বৃষ্টি ও রোদ থেকে আড়াল করত; টুপিটি ভাঁজ করে পকেটেও রাখা যেত। এর নামও এসেছে এই অঞ্চল থেকে: ফরাসি béret বেয়ার্নের উপভাষার হাত ধরে ফিরে যায় প্রাচীন গাসকন berret-এ, মানে ‘টুপি’।
কারিগরের ঘর থেকে কারখানায়
বাণিজ্যিকভাবে বেরেট তৈরি শুরু হয় 17 শতকে, বেয়ার্নের ওলোরোঁ-সাঁত-মারির আশেপাশে। বহুদিন এটি স্থানীয় কারিগরি হয়েই ছিল; 19 শতকে বেরেট তৈরি শিল্পে পরিণত হয়, আর 1819 সাল থেকে ছোট্ট শহর নাই এর অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হয়ে ওঠে। 1928 সালের মধ্যে ফ্রান্সের 20টিরও বেশি কারখানা, আর স্পেন ও ইতালির কয়েকটি, মিলিয়ন মিলিয়ন বেরেট তৈরি করছিল, আর ফ্রান্স ও স্পেনে কালো বেরেট হয়ে উঠেছিল শ্রমিকদের রোজকার টুপি।
কেন প্যারিসের কথা মনে আসে
ব্রিটেন আর আমেরিকায় কালো বেরেটকে একসময় ফ্রান্সের জাতীয় টুপি মনে করা হতো, আর এটি হয়ে ওঠে শিল্পী, কবি আর বুদ্ধিজীবীর চেনা ছকের অংশ; 1920-এর দশক থেকে পশ্চিমা ফ্যাশন একে আপন করে নেয়। কিন্তু এর নামগুলো প্যারিসের দিকে নয়, দক্ষিণ-পশ্চিমের দিকে ইশারা করে: ফরাসিতে béret basque, জার্মানে Baskenmütze। ‘বাস্ক’ তকমাটি জনপ্রিয় হয় মূলত এই কারণে যে বাস্ক অঞ্চলে টুপিটি খুব জনপ্রিয় ছিল, আর বাস্ক উপকূলের বিয়ারিৎজ 19 শতকে এক বিখ্যাত অবকাশকেন্দ্র হয়ে ওঠে।
সূত্র: en.wikipedia.org ↗ · etymonline.com ↗ · en.tourismepau.com ↗