ফিলেতেয়াদো (সাইনবোর্ড চিত্রকলা) কোথা থেকে এসেছে?
ফিলেতেয়াদো এসেছে বুয়েনোস আইরেস থেকে। পাক খাওয়া লতা, ফুল আর নকশাদার হরফের এই শিল্পের শুরু 19 শতকের শেষ দিকে, শহরজুড়ে খাবার বয়ে বেড়ানো ঘোড়ার গাড়ির গায়ে, আর আজ এটি শহরের দৃশ্যমান পরিচয়ের অংশ।
রং করা ডেলিভারির গাড়ি
19 শতকের শেষে বুয়েনোস আইরেসে দুধ, রুটি, ফল আর মুদিসামগ্রী বিলি করা ধূসর ঘোড়ার গাড়িগুলোর গায়ে গাড়ির কারখানায় আঁকা নকশা পড়তে শুরু করে। শুরুতে সেগুলো ছিল সাদামাটা: প্রতিটি প্যানেলে কোণে কোণে বিন্দু দেওয়া একটি চৌকো ফ্রেম, আর ব্যবসায়ীর নামের আদ্যক্ষর। চিত্রকরদের বলা হতো fileteadores, তাঁদের লম্বা, সরু তুলির নামে, যা দিয়ে তাঁরা আঁকতেন filetes, অর্থাৎ সূক্ষ্ম অলংকারী রেখা; শব্দটির উৎস লাতিন filum, অর্থাৎ ‘সুতো’।
গাড়ি থেকে বাসে
কালক্রমে শৈলীটি আরও সমৃদ্ধ হয়, এতে যুক্ত হয় অ্যাকান্থাস পাতা, ফুল, পাখি, ড্রাগন, পতাকা আর লোকপ্রচলিত প্রবাদ, যার অনেকগুলোই রসিকতায় ভরা। 1920 ও 1930-এর দশকে ফিলেতেয়াদো শিল্পীরা ট্রাক আর বাসের দিকে যান, আর কার্লোস কারবোনি ও লেওন উন্ত্রোইব হয়ে ওঠেন এই কারুশিল্পের সবচেয়ে সম্মানিত চিত্রকর। গ্যালারিতে ফিলেতেয়াদো প্রথম প্রদর্শিত হয় 1970 সালে। 1975 সালে পরিবহনের এক বিধি শহরের বাসে নকশা নিষিদ্ধ করে, আর অনেক চিত্রকর সাইনবোর্ড ও প্রদর্শনীর কাজের দিকে ঝোঁকেন। 2015 সালে ইউনেস্কো শিল্পটিকে তার অধরা ঐতিহ্যের তালিকায় যুক্ত করে।
কেন ইতালির কথা মনে আসে
এই অনুমানের শিকড় সত্যিই আছে। বুয়েনোস আইরেস বেড়ে উঠেছে বিপুল ইউরোপীয় অভিবাসনের সঙ্গে, আর এই কারুশিল্পে ডুবে থাকা মানুষেরা এর পথিকৃৎ হিসেবে তিন ইতালীয় অভিবাসীর নাম করেন: ভিসেন্তে ব্রুনেত্তি, সালভাদোর ভেনতুরো আর সেসিলিও পাসকারেল্লা। ভেনতুরোর ছেলে মিগেলকে পাখি, ফুল আর ড্রাগন যোগ করার কৃতিত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু প্রথম দিকের ইতিহাস প্রায় লেখাই হয়নি, আর নগর সরকার বলছে এর উৎপত্তি নিয়ে কোনো ঐকমত্য নেই। শৈলীটি রূপ পেয়েছে বুয়েনোস আইরেসেই, যেখানে ইউরোপীয় উপাদান মিশেছে স্থানীয় ক্রিওয়ো ঐতিহ্যের সঙ্গে।
সূত্র: en.wikipedia.org ↗ · eyemagazine.com ↗ · buenosaires.gob.ar › origenes del filete ↗ · buenosaires.gob.ar › de la prohibicion la representacion mun… ↗