ব্যান্ডোনিয়ন কোথা থেকে এসেছে?
ব্যান্ডোনিয়ন এসেছে জার্মানি থেকে। ক্রেফেল্ডের বাদ্যযন্ত্র-বিক্রেতা হাইনরিখ বান্ড 19 শতকের মাঝামাঝি এটি গড়ে তোলেন খেমনিৎসে প্রথম তৈরি জার্মান কনসার্টিনা থেকে, আর পরে অভিবাসী ও নাবিকেরা এটি নিয়ে যান রিও দে লা প্লাতায়, যেখানে এটি হয়ে ওঠে ট্যাঙ্গোর কণ্ঠ।
খেমনিৎস থেকে ক্রেফেল্ড
1834 সালের দিকে খেমনিৎসের বাদ্যযন্ত্র-নির্মাতা কার্ল ফ্রিডরিখ উলিগ বোতামে বাজানো কনসার্টিনা বানাতে শুরু করেন। এগুলোতে সুর ছিল অল্প, আর হাইনরিখ বান্ডের কাছে, যিনি ছিলেন সংগীতশিল্পী, শিক্ষক ও সুরকার এবং ক্রেফেল্ডে বাবার বাদ্যযন্ত্রের দোকানের হাল ধরেছিলেন, এগুলো খুব সীমিত মনে হয়। তিনি কি-বোর্ড বাড়ান, প্রথমে 64 আর তারপর 88 সুরে, পরে 100-তে। তিনি তাঁর যন্ত্রের নাম দেন Bandonion, সম্ভবত ভালো বিকোনো অ্যাকর্ডিয়নের আদলে।
পুবে তৈরি, ক্রেফেল্ডে বিক্রি
বান্ড নিজে কখনো যন্ত্র বানাননি। সংগীতবিদ ইয়ানিনে ক্রুগার তাঁর নির্মাতাদের খুঁজে পান পূর্ব জার্মানির ভাল্ডহাইমে ক্রিস্টিয়ান রাইশেলের কর্মশালায়, আর দেখেন যে বান্ডের নকশায় বোতামের সারি ছিল ছয়টি, যেখানে পূর্বের কনসার্টিনা-নির্মাতারা রাখতেন তিনটি। বান্ড যন্ত্রগুলো বিক্রি করতেন শুধু ক্রেফেল্ডে নিজের দোকানে। প্রায় 40 বছর পরে পারিবারিক ব্যবসাটি বন্ধ হয়, আর বাণিজ্যের নেতৃত্ব নেন আর্নল্ড ভাইয়েরা, যাঁরাও পুবের, বান্ডের নকশা বজায় রেখে। 1910 সালের মধ্যে জার্মানি আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ের জন্য ব্যান্ডোনিয়ন বানাচ্ছিল, আর শুধু 1930 সালেই 25,000টি পাঠানো হয় আর্জেন্টিনায়।
কেন আর্জেন্টিনার কথা মনে আসে
কোনো নথি ঠিক দেখায় না ব্যান্ডোনিয়ন কীভাবে রিও দে লা প্লাতায় পৌঁছায়। ধারণা করা হয়, অভিবাসী ও নাবিকেরা এটি আনেন 1870 সালের দিকে, আর এক বিবরণে আছে এক অভিবাসীর কথা, যিনি 1862 সালে সমুদ্রযাত্রায় এটি বাজিয়েছিলেন। ট্যাঙ্গো একে আপন করে নেয়, আর আনিবাল ত্রোইলো ও আস্তোর পিয়াৎসোলার মতো বাদকেরা একে বিখ্যাত করেন। তবু 20 শতকের বেশির ভাগ সময় ব্যান্ডোনিয়ন তৈরি হতো জার্মানিতে, আর্জেন্টিনায় নয়। পুরোনো জার্মান যন্ত্র দুর্লভ ও দামি হয়ে উঠলে আর্জেন্টিনার নির্মাতারা নিজেরাই বানাতে শুরু করেন, তাঁদের মধ্যে 2014 সালে লানুস জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি দল।
সূত্র: en.wikipedia.org ↗ · de.wikipedia.org ↗ · welt.de ↗ · bbc.com ↗