অস্ট্রেলিয়ান শেপার্ড (কুকুরের জাত) কোথা থেকে এসেছে?
অস্ট্রেলিয়ান শেপার্ড এসেছে পশ্চিম যুক্তরাষ্ট্র থেকে। নাম যা-ই বলুক, 19 শতকে ক্যালিফোর্নিয়ার পশুপালকেরা পশ্চিমের ভেড়ার পাল সামলাতে এই জাত গড়ে তোলেন, আর ‘অস্ট্রেলিয়ান’ নামটি সম্ভবত এসেছে অস্ট্রেলিয়া থেকে জাহাজ-বোঝাই ভেড়ার সঙ্গে আসা কুকুরদের থেকে।
আমেরিকার পশ্চিমের রাখাল কুকুর
স্প্যানিশ বসতি স্থাপনকারীরা 16 শতকেই উত্তর আমেরিকায় ভেড়া আর পাল সামলানোর কুকুর নিয়ে আসেন, আর জাতটি আংশিকভাবে এমন কুকুরদেরই বংশধর। 19 শতকের মাঝামাঝি ক্যালিফোর্নিয়ার স্বর্ণ-অভিযান খনিশ্রমিকদের খাওয়ানোর জন্য ভেড়ার চাহিদা আকাশছোঁয়া করে তোলে। মিডওয়েস্ট আর পূর্বাঞ্চল থেকে ভেড়ার পাল পশ্চিমে পাঠানো হয় ব্রিটিশ বংশের রাখাল কুকুরসহ, যাদের অনেকেই ছিল কাজের কলি, প্রায়ই মার্ল রঙের। ক্যালিফোর্নিয়া থেকে জাতটি ছড়িয়ে পড়ে পশ্চিমের রাজ্যগুলোতে, যেখানে পশুপালকেরা ভেড়া আর গরু সামলানোর জন্য একে কদর করতেন।
জাহাজ থেকে নামা এক নাম
19 শতকের শেষ দিকে পশ্চিমে আনা কিছু ভেড়া এসেছিল অস্ট্রেলিয়া থেকে। তাদের আগমনের খবরে সংবাদপত্র উল্লেখ করে সঙ্গে আসা ‘Australian Shepherds’-এর কথা, যারা মূলত ব্রিটিশ বংশের, ঢিলেঢালাভাবে সংজ্ঞায়িত এক ধরনের কুকুর। অস্ট্রেলিয়ায় কেউ এই নাম ব্যবহার করত না; করত মার্কিনরা, আর কালক্রমে প্রতিটি মার্ল রঙের রাখাল কুকুর এই নাম পেয়ে যায়। কুকুরগুলোকে স্প্যানিশ, নিউ মেক্সিকান বা ক্যালিফোর্নিয়া শেপার্ডও বলা হতো। 2017 সালের এক জিনগত গবেষণা জাতটিকে কলি আর বর্ডার কলির মতো ব্রিটিশ পাল-সামলানো কুকুরদের দলে রাখে।
রোডিওতে কেরামতি
এক শতাব্দীরও বেশি সময় অস্ট্রেলিয়ান শেপার্ড ছিল নিছক কাজের কুকুর, পশুপালনের জগতের বাইরে প্রায় অচেনা। সেটা বদলায় 20 শতকের মাঝামাঝি, যখন রোডিও শিল্পী জে সিসলার নানা রকম কেরামতি দেখানো অসিদের নিয়ে পশ্চিমের রাজ্যগুলোর রোডিওতে ঘুরে বেড়ান। এর পরপরই গড়ে ওঠে একটি জাত-ক্লাব, অস্ট্রেলিয়ান শেপার্ড ক্লাব অব আমেরিকা। ইউনাইটেড কেনেল ক্লাব 1979 সালে জাতটিকে স্বীকৃতি দেয়, আর আমেরিকান কেনেল ক্লাব 1990-এর দশকে।
সূত্র: en.wikipedia.org ↗ · akc.org › australian shepherd history behind breed ↗ · akc.org › australian shepherd facts ↗