গ্যালাপাগোস দৈত্যাকার কচ্ছপ কোথা থেকে এসেছে?
গ্যালাপাগোস দৈত্যাকার কচ্ছপ এসেছে ইকুয়েডরের গ্যালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জ থেকে, যে দ্বীপপুঞ্জের নামই হয়েছে এদের নামে। এরা জীবিত স্থলচর কচ্ছপদের মধ্যে সবচেয়ে বড়, সবচেয়ে ভারীগুলোর ওজন 400 কিলোগ্রামের বেশি, আর 1835 সালে দ্বীপে দ্বীপে এদের পার্থক্য চার্লস ডারউইনকে ভাবিয়ে তোলে।
কচ্ছপের নামে দ্বীপ
দ্বীপগুলোর স্প্যানিশ আবিষ্কারক তোমাস দে বেরলাঙ্গা 1535 সালে লেখেন, ‘এত বড় কচ্ছপ যে প্রতিটি পিঠে একজন মানুষ বইতে পারে।’ প্রায় 1570 সালের মানচিত্রে দ্বীপপুঞ্জটির নাম ‘Insulae de los Galopegos’, অর্থাৎ কচ্ছপের দ্বীপপুঞ্জ, স্প্যানিশ galápago থেকে। কচ্ছপগুলোর পূর্বপুরুষেরা এসেছিল দক্ষিণ আমেরিকার মূল ভূখণ্ড থেকে; এদের নিকটতম জীবিত আত্মীয় অনেক ছোট চাকো কচ্ছপ। সম্ভবত এরা সমুদ্রস্রোতে ভেসে সেখানে পৌঁছায়, কারণ এরা ভেসে থাকতে পারে আর খাবার বা মিঠা পানি ছাড়া মাসের পর মাস চলতে পারে।
গম্বুজ, জিন আর ডারউইন
নিচু গাছপালায় ভরা আর্দ্র দ্বীপগুলোতে কচ্ছপেরা বড়, খোলস গম্বুজাকার, গলা ছোট। শুকনো দ্বীপগুলোতে এরা ছোট, খোলস ঘোড়ার জিনের মতো, যাতে লম্বা গলা বাড়িয়ে ক্যাকটাসের চ্যাপ্টা ডাঁটার নাগাল পায়। ডারউইন 1835 সালে দ্বীপগুলোতে পাঁচ সপ্তাহ কাটান, আর ভাইস-গভর্নর মিস্টার লসন তাঁকে বলেন, যেকোনো কচ্ছপ কোন দ্বীপের, তা তিনি বলে দিতে পারেন। ডারউইন পরে স্বীকার করেন, শুরুতে তিনি এদিকে খুব কম মনোযোগ দিয়েছিলেন, আর দুটি দ্বীপের সংগ্রহ তিনি আগেই আংশিক মিশিয়ে ফেলেছিলেন।
বিপন্ন দৈত্য
কচ্ছপেরা খাবার বা পানি ছাড়া দীর্ঘদিন বাঁচতে পারে, তাই জলদস্যু, তিমি শিকারি আর সিল শিকারিরা টাটকা মাংসের জন্য এদের জীবন্ত অবস্থায় জাহাজের খোলে স্তূপ করে রাখত, আর এদের তেলে জ্বলত কিতোর বাতি। মানুষের আনা ইঁদুর, ছাগল আর শূকরের ধাক্কাও মিলে এদের সংখ্যা 16 শতকের 250,000-এর বেশি থেকে 1970-এর দশকের মধ্যে নেমে আসে প্রায় 15,000-এ। চার্লস ডারউইন গবেষণা কেন্দ্রের প্রজনন কর্মসূচি এরপর কয়েকটি দলের সংখ্যা ফিরিয়ে এনেছে, কিন্তু পিন্তা দ্বীপের জানা শেষ কচ্ছপ লোনসাম জর্জ মারা যায় 2012 সালে।
সূত্র: en.wikipedia.org ↗ · galapagos.org ↗