গোল্ডেন হ্যামস্টার (পোষা হ্যামস্টার) কোথা থেকে এসেছে?
গোল্ডেন হ্যামস্টার, সারা বিশ্বের ঘরে ঘরে পোষা হ্যামস্টার, এসেছে উত্তর সিরিয়ার আলেপ্পোর কাছের কৃষিজমি থেকে। মনে করা হয়, পোষা হ্যামস্টারদের শিকড় 1930 সালে সেখানকার এক গমখেত থেকে খুঁড়ে বের করা একটিমাত্র পরিবারে।
আলেপ্পোর ‘থলেওয়ালা সাহেব’
বিজ্ঞানীরা প্রথম প্রাণীটির বর্ণনা দেন 1797 সালে, সিরিয়ায় বসবাসকারী দুই স্কটিশ চিকিৎসকের লেখা The Natural History of Aleppo বইয়ে। 1839 সালে ব্রিটিশ প্রাণিবিজ্ঞানী জর্জ রবার্ট ওয়াটারহাউস এর নাম দেন Cricetus auratus, অর্থাৎ সোনালি হ্যামস্টার; তাঁর নমুনার চামড়াটি রাখা আছে লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামে। এর স্থানীয় আরবি নামের মোটামুটি মানে ‘থলেওয়ালা সাহেব’, গালের সেই থলের জন্য, যা কাঁধ পর্যন্ত বিস্তৃত আর যাতে করে সে খাবার বয়ে নেয় গর্তে।
গমখেতে খোঁড়াখুঁড়ি
1930 সালের বসন্তে জেরুজালেমের হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিজ্ঞানী ইসরায়েল আহারোনি আলেপ্পোর কাছে প্রাণীটির খোঁজে যান। তাঁর সহকর্মী সল অ্যাডলার আশা করছিলেন, এটি পরজীবীঘটিত রোগ লেশম্যানিয়াসিস নিয়ে গবেষণার জন্য গবেষণাগারের প্রাণী হতে পারে। স্থানীয় এক শিকারি গেওর্গিয়ুস খলিল তাহানের পথনির্দেশে তিনি একটি খামারে পৌঁছান, যেখানে 12 এপ্রিল গ্রামবাসীরা আট ফুট খুঁড়ে একটি মা হ্যামস্টার আর তার ছানাদের পায়। কিছু পালিয়ে যাওয়ায় আর কিছু মারা যাওয়ায় জেরুজালেমে টিকে থাকে মাত্র কয়েকটি, কিন্তু এক ভাই আর এক বোন বংশবৃদ্ধি করে।
কেন বলা হয় ইউরোপ
হ্যামস্টার ইউরোপে পৌঁছায় গবেষণাগারের প্রাণী হিসেবে। আহারোনির দলের বংশধরদের 1931 সালে পাঠানো হয় ব্রিটেনে, ওয়েলকাম ব্যুরো অব সায়েন্টিফিক রিসার্চে, আর আরও দুই জোড়া যায় জুলজিক্যাল সোসাইটি অব লন্ডনে, 1932 সালে। এদের বংশধরেরা 1937 সালে পৌঁছায় ব্যক্তিগত প্রজননকারীদের হাতে, আর আজ ব্রিটিশ ও আমেরিকান পোষা প্রাণীর দোকানের বেশির ভাগ হ্যামস্টারই গোল্ডেন হ্যামস্টার। ইউরোপের নিজস্ব বুনো প্রজাতিও আছে, আকারে বড় ইউরোপীয় হ্যামস্টার, কিন্তু পোষা হ্যামস্টার এসেছে সিরিয়া থেকে, আর বুনো অবস্থায় এটি এখন বিপন্ন।
সূত্র: en.wikipedia.org › Golden hamster ↗ · smithsonianmag.com ↗ · en.wikipedia.org › Israel Aharoni ↗