সয়া দুধ কোথা থেকে এসেছে?
সয়া দুধ এসেছে চীন থেকে, যেখানে মানুষ বহু শতাব্দী ধরে এটি পান করে আসছে। এটি বানানো হয় সয়াবিন ভিজিয়ে, জলের সঙ্গে বেটে, তারপর ফুটিয়ে ছেঁকে, আর পশ্চিমের সুপারমার্কেটে পৌঁছানোর বহু আগে থেকেই এটি ছিল চীনের সকালের পানীয়।
প্রাচীন চীনের শিমের তরল
চীনা নাম doujiang মানে ‘শিমের তরল’। শব্দটি দেখা যায় প্রায় 82 খ্রিস্টাব্দের বই লুন হেং-এও, যদিও তখন এর মানে হয়তো ছিল ছাঁকা পানীয় নয়, বরং সয়াবিন বাটা দিয়ে তৈরি স্যুপ। সয়ার ইতিহাসবিদ উইলিয়াম শার্টলেফ আর আকিকো আওইয়াগি সয়া দুধের প্রথম লিখিত উল্লেখ, doufujiang নামে, ধরেছেন 1365 সালে। প্রথাগত পদ্ধতিতে ভেজানো সয়াবিন হাতে ঘোরানো পাথরের জাঁতায় পেষা হতো, আর দুধটি ছাঁকা হতো কাপড়ে।
রাস্তার ধারের নাশতা
18 শতকের মধ্যে চীনে ফেরিওয়ালারা সয়া দুধ বিক্রি করত। এটি খাওয়া হতো গরম আর মিষ্টি করে, ভোরবেলা বা গভীর রাতে, কিংবা সকালের নাশতায় নোনতা স্যুপ হিসেবে, তাতে ডুবিয়ে খাওয়া হতো লম্বা ভাজা ময়দার কাঠি। 20 শতকের গোড়ায় এটি বোতলে ভরা শুরু হয়, আর 1929 সালের মধ্যে সাংহাইয়ের কারখানাগুলো দিনে 1,000-এরও বেশি বোতল বিক্রি করত। 1950-এর দশক থেকে হংকং আর সিঙ্গাপুরে এটি বিক্রি হতো কোমল পানীয়ের মতো।
কেন বলা হয় জাপান
জাপানে এর নিজস্ব নাম আছে, tonyu, মানে ‘শিমের দুধ’, কিন্তু প্রথাগত জাপানি খাদ্যতালিকায় সয়া দুধ কখনো ছিল না। সেখানে এর প্রাচীনতম জানা উল্লেখ 1895 সালের, আর জাপানের প্রথম বাণিজ্যিক সয়া দুধ ছোট পরিসরে বোতলে ভরা হয় 1957 সালে। জাপানে এটি খুব জনপ্রিয় হয় কেবল 1970-এর দশকের শেষে, যখন জাপানি নির্মাতারা এর শিমের গন্ধ দূর করার নতুন কৌশল নিখুঁত করে তোলেন। ততদিনে চীনে এটি বহু শতাব্দী ধরে সকালের পানীয়।
সূত্র: en.wikipedia.org ↗ · soyinfocenter.com › soymilk1.php ↗ · soyinfocenter.com › soymilk2.php ↗ · todaysdietitian.com ↗