Whence
তুষার বানর (জাপানি ম্যাকাক)
প্রাণী

তুষার বানর (জাপানি ম্যাকাক) কোথা থেকে এসেছে?

তুষার বানর, অর্থাৎ জাপানি ম্যাকাক, এসেছে জাপান থেকে, যেখানে এরা থাকে হোনশু, শিকোকু ও কিউশু দ্বীপে। আর কোনো বানর এর চেয়ে বেশি উত্তরে বা এর চেয়ে ঠান্ডা জলবায়ুতে থাকে না, আর কিছু দল প্রতি বছর কয়েক মাস কাটায় গভীর তুষারে।

সবচেয়ে উত্তরের বানর

জাপানি ম্যাকাক থাকে জাপানের চারটি প্রধান দ্বীপের তিনটিতে, তবে হোক্কাইদোতে নয়। সবচেয়ে উত্তরের দলগুলো থাকে হোনশুর ডগায় শিমোকিতা উপদ্বীপে, আর সবচেয়ে দক্ষিণেরগুলো, ইয়াকুশিমা দ্বীপে, একটি আলাদা উপপ্রজাতির। এদের বন দক্ষিণের উপক্রান্তীয় থেকে উত্তরের পাহাড়ের উপমেরু অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত। এরা শীতঘুমে যায় না; ঘন লোম এদের কঠিন শীতে উষ্ণ রাখে। এদের লোম বাদামি-ধূসর, মুখ গোলাপি-লাল আর লেজ ছোট, আর 1989 সালের এক গবেষণার হিসাবে বুনো পরিবেশে ছিল প্রায় 1.14 লাখ জাপানি ম্যাকাক।

উষ্ণ প্রস্রবণে বানর

বিখ্যাত স্নানরত বানরেরা থাকে নাগানো প্রিফেকচারের জিগোকুদানিতে, অর্থাৎ ‘নরকের উপত্যকা’য়, যেখানে 850 মিটার উচ্চতায় জমাট মাটি থেকে টগবগিয়ে গরম জল বেরোয় আর বছরে চার মাস তুষার থাকে। গাছ কাটায় এদের পাহাড়ি বন উজাড় হয়ে গেলে বানরেরা নেমে এসে ফলবাগানে হানা দিতে থাকে, আর তাদের গুলি না করে এক স্থানীয় মানুষ তাদের খাওয়াতে শুরু করেন। বানর পার্কটি খোলে 1964 সালে। মোটামুটি সেই সময়ে এক কৌতূহলী বাচ্চা বানর এক সরাইখানার খোলা স্নানকুণ্ডে নেমে পড়ে, বড়রা তার দেখাদেখি নামে, আর পরে পার্কটি কেবল বানরদের জন্য একটি কুণ্ড বানায়।

কেন হিমালয়ের কথা মনে আসে

তুষার আর বানর মনে করিয়ে দেয় এশিয়ার মূল ভূখণ্ডের উঁচু পাহাড়ের কথা, আর সেখানে সত্যিই ম্যাকাক থাকে: আসামি ম্যাকাক উত্তর-পূর্ব ভারতে 4,000 মিটার পর্যন্ত উচ্চতার পাহাড়ি বনে থাকে। কিন্তু তুষার বানর একটি আলাদা প্রজাতি, যা কেবল জাপানে পাওয়া যায়। একে তুষার বানর বলা হয়, কারণ কিছু দল এমন জায়গায় থাকে যেখানে বছরে কয়েক মাস মাটি তুষারে ঢাকা থাকে, আর জিগোকুদানিতে আসা বিদেশি পর্যটকেরা সাধারণত এই নামটিই ব্যবহার করেন।

সূত্র: en.wikipedia.org › Japanese macaque ↗ · animaldiversity.org ↗ · en.wikipedia.org › Jigokudani Monkey Park ↗ · ja.wikipedia.org ↗ · en.wikipedia.org › Assam macaque ↗

আরও প্রাণী

বেঙ্গল বিড়াল
প্রাণী

বেঙ্গল বিড়াল

📍 ক্যালিফোর্নিয়া, যুক্তরাষ্ট্র

নাম সত্ত্বেও বেঙ্গল বিড়াল সৃষ্টি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে: প্রজননকারী জিন মিল 1963 সালে একটি বুনো এশীয় লেপার্ড ক্যাটকে ঘরোয়া বিড়ালের সঙ্গে মেলান এবং 1980-এর দশকে ক্যালিফোর্নিয়ায় জাতটি প্রতিষ্ঠা করেন। ‘বেঙ্গল’ এসেছে লেপার্ড ক্যাটের বৈজ্ঞানিক নাম থেকে।

গ্রেট ডেন (কুকুরের জাত)
প্রাণী

গ্রেট ডেন (কুকুরের জাত)

📍 জার্মানি

নাম যা-ই বলুক, গ্রেট ডেন একটি জার্মান জাত, ডেনমার্কের সঙ্গে যার কোনো জানা যোগসূত্র নেই। জার্মানরা একে বলে Deutsche Dogge; ‘Dane’ এসেছে এর ফরাসি নাম grand danois থেকে।

রিং-টেইলড লেমুর
প্রাণী

রিং-টেইলড লেমুর

📍 দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম মাদাগাস্কার

রিং-টেইলড লেমুর বুনো অবস্থায় থাকে কেবল দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম মাদাগাস্কারে। দলগুলো ‘যোগাসনে’ বসে পেট সূর্যের দিকে মেলে রোদ পোহায়, আর প্রতিদ্বন্দ্বী পুরুষেরা ‘দুর্গন্ধ-লড়াইয়ে’ একে অপরের দিকে গন্ধওয়ালা লেজ দোলায়।

এশিয়া থেকে আরও গল্প

ব্রিসলওয়ালা টুথব্রাশ
আবিষ্কার

ব্রিসলওয়ালা টুথব্রাশ

📍 চীন

উইলিয়াম অ্যাডিস 1780 সালের দিকে ইংল্যান্ডে ব্যাপকভাবে টুথব্রাশ তৈরি শুরু করার শত শত বছর আগেই চীনে হাড় বা বাঁশের হাতলে বসানো শূকরের শক্ত লোমের ব্রাশ ব্যবহার হতো।

লস্যি (দইয়ের পানীয়)
পানীয়

লস্যি (দইয়ের পানীয়)

📍 পাঞ্জাব (ভারত ও পাকিস্তান)

লস্যি এসেছে পাঞ্জাব থেকে, উত্তর ভারত ও পাকিস্তান জুড়ে ছড়ানো এক কৃষিপ্রধান অঞ্চল। সেখানে দই (প্রথাগতভাবে মোষের দুধের) জলের সঙ্গে ফেটিয়ে তাতে মেশানো হয় হয় নুন আর জিরে, নয়তো চিনি আর এলাচ।

ডায়াবোলো (ঘুরন্ত জাগলিং খেলনা)
খেলা

ডায়াবোলো (ঘুরন্ত জাগলিং খেলনা)

📍 চীন

ডায়াবোলোর শুরু চীনে kongzhu (‘ফাঁপা বাঁশ’) হিসেবে, যার ফাঁপা বাঁশের কাপ সুতোয় ঘোরার সময় শিস দিত। এটি ইউরোপে পৌঁছায় 1790-এর দশকে, কিন্তু ‘diabolo’ নামের শয়তানি ছোঁয়া আসে বিংশ শতকের গোড়ায়, এক উন্মাদনার সময়।