রিং-টেইলড লেমুর কোথা থেকে এসেছে?
রিং-টেইলড লেমুর এসেছে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম মাদাগাস্কার থেকে, বুনো অবস্থায় এটি থাকে কেবল সেখানেই। লম্বা সাদা-কালো আংটি-আঁকা লেজের জন্য এটি সব লেমুরের মধ্যে সবচেয়ে সহজে চেনা যায়, আর এটিকে নিয়েই গবেষণা হয়েছে সবচেয়ে বেশি।
শুকনো দক্ষিণের বন
সব লেমুরের মতো রিং-টেইলড লেমুরও পাওয়া যায় কেবল মাদাগাস্কারে। এর বিচরণক্ষেত্র তোলানারো, যার আরেক নাম ফোর-দোফাঁ, থেকে দক্ষিণের কাঁটাবন পেরিয়ে পশ্চিম উপকূল ধরে উত্তরে বিস্তৃত, আর আন্দ্রিংগিত্রা পর্বতের কাছে আছে এর একটি ছোট দল। এগুলো দ্বীপের সবচেয়ে গরম ও শুষ্ক বনগুলোর অন্যতম। এটি নদীর ধারের গ্যালারি বন পছন্দ করে, আর অন্য যেকোনো লেমুরের চেয়ে বেশি সময় কাটায় মাটিতে। এর প্রধান খাবার ফল আর পাতা, তিন ডজন পর্যন্ত রকমের গাছ থেকে।
নারীদের নেতৃত্বে দল
রিং-টেইলড লেমুর সাধারণত 6 থেকে 25টির দলে থাকে, কখনো 30টিরও বেশি। স্ত্রী লেমুরেরাই কর্তৃত্ব করে: খাবার আর সঙ্গী বেছে নেওয়ার প্রথম অধিকার তাদের, যা প্রাইমেটদের মধ্যে অস্বাভাবিক। স্ত্রীরা সারা জীবন জন্মের দলেই থাকে, আর পুরুষেরা বড় হলে অন্য দলে চলে যায়। চলার সময় দলের সদস্যরা একসঙ্গে থাকতে লেজ পতাকার মতো উঁচিয়ে রাখে। দলগুলো খোলা জায়গায় জড়ো হয়ে ‘যোগাসনে’ রোদ পোহায়, পেট সূর্যের দিকে আর হাত-পা ছড়িয়ে, খাবার খুঁজতে বেরোনোর আগে শরীর গরম করে নিতে।
গন্ধের লড়াই
লেমুরদের কাছে গন্ধের গুরুত্ব বিরাট। পুরুষদের কবজি আর বুকে থাকে গন্ধগ্রন্থি, আর কবজির প্রতিটি গ্রন্থিতে থাকে শিংয়ের মতো একটি কাঁটা, যা দিয়ে তারা ডাল ফুটো করে তারপর তাতে গন্ধ মাখায়। গাছের গুঁড়িতে চিহ্ন দিতে লেমুর এমনকি হাতে ভর দিয়ে উল্টো হয়েও দাঁড়ায়। ‘দুর্গন্ধ-লড়াইয়ে’ দুই প্রতিদ্বন্দ্বী পুরুষ কয়েক ফুট দূরে দাঁড়িয়ে কবজির গ্রন্থিতে লেজ ঘষে তা মাথার ওপর দোলায়, একে অপরের দিকে চেয়ে থাকে, যতক্ষণ না একজন হার মেনে পালায়।
সূত্র: en.wikipedia.org ↗ · nationalzoo.si.edu ↗ · lemur.duke.edu ↗