ইয়র্কশায়ার টেরিয়ার (কুকুরের জাত) কোথা থেকে এসেছে?
ইয়র্কশায়ার টেরিয়ার এসেছে উত্তর ইংল্যান্ডের ইয়র্কশায়ারের মিল-শহরগুলো থেকে। 19 শতকে সেখানকার মিল-শ্রমিকেরা স্কটিশ তাঁতিদের দক্ষিণে নিয়ে আসা টেরিয়ার থেকে গড়ে তোলেন ছোট, রেশমি লোমের এক ইঁদুর-শিকারি কুকুর, আর 1870-এর দশকের মধ্যে এটি কাউন্টির নাম পেয়ে যায়।
মিলের ইঁদুর-শিকারি
19 শতকের মাঝামাঝি স্কটল্যান্ডের তাঁতিরা ইয়র্কশায়ারের বস্ত্রকলে কাজ করতে দক্ষিণে আসেন, আর সঙ্গে আনেন তাঁদের টেরিয়ার। সেখানে স্কটিশ কুকুরগুলোর, যার মধ্যে ছিল ক্লাইডসডেল বা পেইজলি টেরিয়ার, সংকর হয় স্থানীয় টেরিয়ারের সঙ্গে। প্রজননের বেশিরভাগটাই করেন মিল-শ্রমিকেরা, আর তাঁদের ছোট কুকুরগুলো মিলে ইঁদুর শিকার করত। নথিভুক্ত সবচেয়ে পুরোনো পূর্বপুরুষ হলো ওল্ড ক্র্যাব নামের এক কালো-বাদামি টেরিয়ার, যার জন্ম 1850 সালের কাছাকাছি, আর ওল্ড কিটি নামের এক পেইজলি টেরিয়ার।
হাডার্সফিল্ড বেন গড়ে দেয় চেহারা
শুরুতে নীল শরীর আর হালকা হলদে-বাদামি বা রুপালি মাথার প্রায় যেকোনো লম্বা লোমের টেরিয়ারই ইয়র্কশায়ার টেরিয়ার বলে চলে যেত। তারপর এল হাডার্সফিল্ড বেন, যার জন্ম 1865 সালের কাছাকাছি, আর মালিক ব্র্যাডফোর্ডের মেরি অ্যান ফস্টার। সে ডগ শোতে 74টি পুরস্কার জেতে, আর ইঁদুর ধরার প্রতিযোগিতাতেও নজর কাড়ে। ওজন 9 থেকে 12 পাউন্ড হলেও তার নিয়মিত 7 পাউন্ডের কম ওজনের ছানা হতো। ছয় বছর বয়সে এক ঘোড়ার গাড়ির চাকায় চাপা পড়ে সে মারা যায়, তবু জাতটির চেহারা সে-ই ঠিক করে দেয়, আর আজও তাকে বলা হয় এর ‘পিতা’।
কেন স্কটল্যান্ডের কথা মনে আসে
স্কটিশ শিকড় সত্যি। জাতটি এসেছে স্কাই টেরিয়ার আর বিলুপ্ত ক্লাইডসডেলের মতো বড় স্কটিশ টেরিয়ার থেকে, আর ক্লাইডসডেলের রেশমি নীল-বাদামি লোম ইয়র্কির গায়ে আজও দেখা যায়। প্রথম কুকুরগুলো প্রদর্শিত হয় ‘Broken Haired Scotch Terriers’ নামে। কিন্তু জাতটি গড়ে উঠেছে ইয়র্কশায়ারে, আর 1870-এর দশকের মধ্যে কুকুরগুলো সেখানে ও তার বাইরে এত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে যে কাউন্টির নামই পেয়ে যায়; এক পুরোনো বিবরণ বলে, নামটি দেওয়া হয় ‘ইয়র্কশায়ারে এদের এত বেশি উন্নতি ঘটানোর কারণে’।
সূত্র: en.wikipedia.org › Yorkshire Terrier ↗ · en.wikipedia.org › Huddersfield Ben ↗ · akc.org ↗ · dogsnz.org.nz ↗