বিলুম (জালের থলি) কোথা থেকে এসেছে?
বিলুম এসেছে নিউ গিনি থেকে, বিশেষ করে পাপুয়া নিউ গিনি থেকে, যেখানে নারীরা হাতে সুতোয় ফাঁস দিয়ে দিয়ে প্রসারণশীল থলি বোনেন। এতে বাগানের ফসল থেকে শিশু পর্যন্ত সবই বহন করা হয়, আর সেখানকার মানুষ একে বলেন পাপুয়া নিউ গিনির সবচেয়ে নিজস্ব জিনিস।
ছালের সুতোর ফাঁস
ঐতিহ্যগতভাবে সুতো বানানো হতো তুঁত বা ডুমুরের মতো গাছের ভেতরের ছাল থেকে, কাজ বুঝে বাছাই করে: কিছু আঁশ ভালো রং ধরে, কিছু ভেজা অবস্থায় টেকে। নির্মাতা হাত আর ঊরুর মাঝে আঁশ পাকিয়ে দুই-পাকের সুতো বানান আর কাজ করতে করতে তা লম্বা করে চলেন, তাই সুতো পাকানো আর ফাঁস দেওয়া চলে পালা করে। কোনো গিঁট দেওয়া হয় না, আর উল-বোনা বা ক্রুশের কাজের বিপরীতে, ফাঁসে বোনা থলি কোথাও কাটা পড়লেও তার চারপাশ খুলে আসে না। টোক পিসিন ভাষায় bilum হলো এই ফাঁস দেওয়ার কৌশলেরই নাম।
প্রতিটি বোঝার জন্য একটি থলি
পশ্চিম উচ্চভূমিতে, মাউন্ট হাগেনের আশপাশে, নারীরা কাজের থলিটি পরেন ফিতে কপালে রেখে আর থলিটি পিঠের ওপরের দিকে ঝুলিয়ে। সেখানে বাগানের কঠিন কাজের অনেকটাই করেন নারীরা, আর এতে 20 কেজি পর্যন্ত মিষ্টি আলু, ইয়াম, কচু বা জ্বালানি কাঠ বয়ে নেন। আলগা ফাঁসের কারণে থলিটি যেকোনো বোঝার চারপাশে ছড়িয়ে যেতে পারে, আর bilum শব্দের আরেক অর্থ ‘গর্ভ’। স্তন্যদায়ী মায়েরা শিশু বহনের জন্য দ্বিতীয় একটি বিলুম পরেন, আর ছোট, ঘন বোনা থলিতে রাখা হয় তাবিজ বা মৃতদের স্মৃতিচিহ্ন।
উপহার, বাণিজ্য আর ফ্যাশন
পাপুয়া নিউ গিনিতে 800-র বেশি ভাষা, তবু সুতোর থলি ব্যবহার হতো প্রায় সবখানে, আর যেখানে এগুলো বানানো হতো না, সেখানকার মানুষ বিনিময়ে এগুলো জোগাড় করত। ভালোবাসা জানাতে আত্মীয়-বন্ধুরা একে অপরকে বিলুম দেন; মাউন্ট হাগেনের মেলপা জনগোষ্ঠীর মধ্যে কনে নতুন বিলুম নিয়ে আসেন ননদদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে। আজ নির্মাতারা উল, অ্যাক্রিলিক আর প্লাস্টিক দিয়েও ফাঁস বোনেন। গোরোকার ফ্লোরেন্স কামেল বিলুমের পোশাক নকশা করেন, আর 2006 সালের কমনওয়েলথ গেমসে পাপুয়া নিউ গিনির ক্রীড়াবিদদের জন্য বিলুমের পোশাক আর টাই বানিয়েছিলেন।
সূত্র: horniman.ac.uk ↗ · rotterdam.wereldmuseum.nl ↗ · australian.museum ↗ · en.wikipedia.org ↗