কুবা কাপড় (রাফিয়ার ‘মখমল’) কোথা থেকে এসেছে?
কুবা কাপড় এসেছে ডিআর কঙ্গোর, অর্থাৎ গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গোর কাসাই অঞ্চলের প্রাচীন কুবা রাজ্য থেকে। রাফিয়া তালের আঁশে বোনা আর সেলাই করে নরম, মখমলের মতো রোঁয়ায় সাজানো এই কাপড়কে আফ্রিকার শ্রেষ্ঠ বস্ত্রশিল্পগুলোর একটি ধরা হয়।
পুরুষের বোনা, নারীর হাতে শেষ
পুরুষেরা রাফিয়া তাল চাষ করেন আর সাধারণ তাঁতে এর পাতার আঁশ বুনে চতুষ্কোণ টুকরো বানান, আর প্রথাগতভাবে কেবল পুরুষ আর ছেলেরাই বুনন দেখতে পারে। তাঁত থেকে নামানো কাপড় খসখসে, তাই একে উখলিতে কুটে নরম করা হয়। এরপর কাপড় রং করা হয়, তারপর নারীরা তাতে সেলাই তোলেন। বিখ্যাত রোঁয়ার জন্য তাঁরা সুই দিয়ে রাফিয়ার ছোট ছোট আঁশ বুননের নিচে গুঁজে দেন আর সেগুলো ওপরিতল ঘেঁষে ছেঁটে দেন, তাতে তৈরি হয় মখমলের মতো ঘন, তুলতুলে বুনট।
সূক্ষ্ম শিল্পের এক রাজ্য
কুবা রাজ্য 17 থেকে 19 শতক পর্যন্ত সানকুরু, লুলুয়া আর কাসাই নদীর মাঝে সমৃদ্ধি লাভ করে। কুবাদের মৌখিক ইতিহাস অনুযায়ী, শিয়াম আ-ম্বুল আ ঙুং নামের এক শাসক প্রায় 1625 সালে এর সর্দারশাসিত অঞ্চলগুলোকে এক করেন। এর ছাঁটা রোঁয়ার ‘কাসাই মখমল’ কুবা ভূখণ্ডের রাজদরবারে কদর পেত, আর 18 শতকেই পেয়েছিল ইউরোপেও। রাজ্যটি আজও টিকে আছে, যার নেতৃত্বে আছেন nyim নামে অভিহিত একজন রাজা।
সম্পদ আর সম্মিলিত শ্রমের কাপড়
সূক্ষ্ম কাপড়ের টুকরো জমিয়ে রাখা হতো মর্যাদা দেখাতে বা সম্পদ সঞ্চয় করতে। নারীদের আনুষ্ঠানিক উপর-ঘাগরা, যা প্রথমে পরা হতো অন্ত্যেষ্টিতে আর পরে নাচ ও উৎসবে, সেলাই করে জোড়া হয় অনেকগুলো টুকরো দিয়ে, যার প্রতিটিতে গোষ্ঠীর আলাদা আলাদা নারী নিজের নকশায় সেলাই তোলেন, তাই কোনো দুটি ঘাগরা এক রকম নয়। একটিমাত্র টুকরোতে মাস, এমনকি বছরও লেগে যেতে পারে। 20 শতকের গোড়ায় নৃতাত্ত্বিক এমিল টর্ডে রাজা কোত আপে-র কাছ থেকে সংগ্রহ করেন কুবা বস্ত্রের টিকে থাকা প্রাচীনতম সংগ্রহটি।
সূত্র: en.wikipedia.org › Kuba textiles ↗ · en.wikipedia.org › Kuba Kingdom ↗ · learn.ncartmuseum.org ↗ · metmuseum.org ↗