কিউদো (ধনুকের পথ) কোথা থেকে এসেছে?
কিউদো এসেছে জাপান থেকে। সামুরাইদের তিরন্দাজি থেকে এর উদ্ভব, আর বর্তমান নাম ‘ধনুকের পথ’ এটি পায় 1919 সালে; আজ বিশ্বজুড়ে এক লাখেরও বেশি মানুষ এর চর্চা করেন।
সামুরাইয়ের ধনুক
জাপানে তিরন্দাজির ইতিহাস প্রাগৈতিহাসিক কাল পর্যন্ত যায়: ইয়ায়োই যুগের (প্রায় খ্রিস্টপূর্ব 500 – 300 খ্রিস্টাব্দ) ব্রোঞ্জের ঘণ্টাতেই দেখা যায় মাঝখানের নিচে ধরা লম্বা ধনুক। হেইয়ান যুগের (794–1185) শেষে সামুরাই শ্রেণি ক্ষমতায় এলে তিরন্দাজি শেখানো জরুরি হয়ে পড়ে, আর 12 শতকে প্রথম বিদ্যালয়গুলো গড়ে ওঠে। 15 শতকের শেষ দিকে হেকি দানজো মাসাতসুগুর পায়ে দাঁড়িয়ে নির্ভুল তির ছোড়ার রীতি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। 1543 সালে পর্তুগিজরা ম্যাচলক বন্দুক আনার পর যুদ্ধে ধনুক ধীরে ধীরে জায়গা হারায়।
1919 সালে নতুন নাম
এডো যুগের (1603–1868) দীর্ঘ শান্তিতে তিরন্দাজি অস্ত্রের চেয়ে বেশি হয়ে ওঠে এক অনুশীলন আর প্রতিযোগিতা। মেইজি যুগে (1868–1912) সামুরাইরা মর্যাদা হারান, আর তাঁদের তিরন্দাজি, কিউজুৎসু, পড়তির দিকে যায়। শিক্ষকেরা সাধারণ মানুষের জন্য তাঁদের হলঘর খুলে দেন, বিদ্যালয়গুলো এটি গ্রহণ করে, আর 1919 সাল থেকে একে বলা হয় কিউদো। 1953 সালে অল নিপ্পন কিউদো ফেডারেশন প্রধান ঘরানাগুলো মিলিয়ে একটি মানক রূপ দাঁড় করায়। সবচেয়ে প্রচলিত নিশানার ব্যাস 36 সেমি, আর তাতে তির ছোড়া হয় 28 মিটার দূর থেকে।
কেন চীন বা কোরিয়ার কথা মনে আসে
জাপানের তিরন্দাজি প্রতিবেশীদের কাছে কিছুটা ঋণী। ছোট নিচের বাহু আর লম্বা ওপরের বাহুর জাপানি ধনুকের সবচেয়ে পুরোনো লিখিত বিবরণ আছে ‘ওয়েইয়ের গ্রন্থ’-এ, 3 শতকের একটি চীনা ইতিহাসগ্রন্থে। পরে আনুষ্ঠানিক তিরন্দাজি নিয়ে চীনা ধ্যানধারণা জাপানি দরবারের তিরন্দাজিকে রূপ দেয়, আর চীনা যৌগিক ধনুকের কৌশল থেকে 10 থেকে 12 শতকে তৈরি হয় বাঁশ ও কাঠের ধনুক। কোরিয়া তার ঐতিহ্যবাহী তিরন্দাজিকে বলে gungdo, অর্থাৎ ‘ধনুকের পথ’, কিন্তু সেখানে তির ছোড়া হয় মহিষের শিং, বাঁশ আর রগে তৈরি ছোট যৌগিক ধনুক থেকে।
সূত্র: en.wikipedia.org › Kyūdō ↗ · en.wikipedia.org › Yumi ↗ · kyudo.jp ↗ · en.wikipedia.org › Gakgung ↗