সিকু (জোড়ায় বাজানো পানপাইপ) কোথা থেকে এসেছে?
সিকু এসেছে আন্দিজ থেকে, আর এর সবচেয়ে আপন জায়গা পেরু ও বলিভিয়ার টিটিকাকা হ্রদের চারপাশের আয়মারা জনগোষ্ঠী। এই পানপাইপ দুই ভাগে বিভক্ত, তাই প্রথাগতভাবে একটি সুর বাজাতে লাগে দুজন বাদক।
দুই ভাগ, এক সুর
সিকু হলো বিভিন্ন দৈর্ঘ্যের বাঁশ বা নলখাগড়ার নলের এক সেট, ভেলার মতো সারিতে বাঁধা, যার প্রতিটি নল একটিমাত্র স্বর দেয়। স্কেলের স্বরগুলো ভাগ করা থাকে দুই সারিতে: ইরা, যাতে নল কম আর যা নেতৃত্ব দেয়, আর আর্কা, যা অনুসরণ করে। সবচেয়ে প্রচলিত ধরন সিকু চাল্লায় থাকে 13টি নল, ইরায় ছয়টি আর আর্কায় সাতটি। দুজন বাদক এক এক ভাগ নিয়ে পালা করে স্বর বাজান, এই কৌশলের নাম হকেট।
আল্টিপ্লানোর বড় দল
পানপাইপ আন্দিজের প্রাচীনতম বাদ্যযন্ত্রগুলোর একটি, স্প্যানিশদের আগমনের বহু আগের। টিটিকাকা হ্রদের চারপাশে আয়মারা সম্প্রদায়গুলো উৎসবে এটি বাজায় সিকুরি ধারায়, যা সাধারণত প্রায় কুড়িজন সিকু-বাদকের বড় দলের জন্য, সঙ্গে ঢোলে বাজে দ্রুত ওয়াইনিয়ো ছন্দ। সিকু নানা আকারের হয়, আর একসঙ্গে বাজালে তৈরি হয় সেই ঘন আওয়াজ, যা আন্দিজের সংগীতের প্রিয়। নবিশরাও যোগ দিতে পারেন: পুরো দলের আওয়াজে ছোটখাটো ভুল ঢাকা পড়ে যায়।
সংগীতে কথোপকথন
যন্ত্রটির নাম অনেক: আয়মারায় সিকু, কেচুয়ায় আন্তারা আর স্প্যানিশে সাম্পোনিয়া। ইরাকে বলা হয় পুরুষ ভাগ আর আর্কাকে নারী ভাগ, আর কোনোটিই একা একটি সুর সম্পূর্ণ করতে পারে না। তাদের এই আদান-প্রদান প্রতিফলিত করে পারস্পরিকতা, সেই দেওয়া-নেওয়া যা আন্দিজের গ্রামীণ জীবনজুড়ে বহমান। আজ প্রায়ই একজন বাদকই দুই সারি একসঙ্গে বাজান, আর আধুনিক সিকু পশ্চিমা সংগীতের উপযোগী করে সুর বাঁধা হয়, তবু গ্রামীণ দলগুলো জোড়ায় বাজানোর পুরোনো রীতি ধরে রেখেছে।
সূত্র: en.wikipedia.org › Siku (instrument) ↗ · en.wikipedia.org › Sikuri ↗ · clas.osu.edu ↗