স্যাক্সোফোন কোথা থেকে এসেছে?
স্যাক্সোফোন এসেছে বেলজিয়াম থেকে। দিনাঁর বাদ্যযন্ত্র-নির্মাতা আদল্ফ স্যাক্স, যিনি বড় হয়েছেন ব্রাসেলসে বাবার কারখানায়, 1840 সালের কাছাকাছি এটির নকশা করেন, তারপর চলে যান প্যারিসে, যেখানে 1846 সালে তিনি স্যাক্সোফোনের গোটা একটি পরিবারের পেটেন্ট নেন।
রিড লাগানো পিতল
স্যাক্স ব্রাসেলসে বাঁশি আর ক্ল্যারিনেট শেখেন, আর তাঁর প্রথম গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভাবন ছিল উন্নত বেস ক্ল্যারিনেট। সেই কাজ থেকে তাঁর মাথায় আসে নতুন ভাবনা: এমন এক যন্ত্র, যাতে থাকবে পিতলের যন্ত্রের জোর আর কাঠের বায়ুযন্ত্রের ক্ষিপ্রতা। তিনি এতে দেন একক রিডের মাউথপিস আর শঙ্কু আকৃতির পিতলের দেহ। ক্ল্যারিনেটে জোরে ফুঁ দিলে সুর এক দ্বাদশ (টুয়েলফথ) লাফিয়ে ওঠে, কিন্তু এতে লাফায় এক অক্টেভ, ফলে দুই রেজিস্টারে আঙুলের চাল একই থাকে। বেলজিয়ামের সূত্র বলছে, প্রথম স্যাক্সোফোন তৈরি হয় 1841 সালে।
প্যারিস আর পেটেন্ট
1842 সালে লেফটেন্যান্ট-জেনারেল দ্য রুমিনির আমন্ত্রণে ফরাসি সেনাবাহিনীকে উন্নত যন্ত্র দিতে স্যাক্স প্যারিসে চলে যান, আর সেই বছরই সুরকার এক্তর বেরলিওজ স্যাক্সোফোনের প্রশংসা করে লেখেন। 1846 সালের 28 জুন স্যাক্স 15 বছরের একটি পেটেন্ট পান, যাতে ছিল সাতটি করে দুই পরিবারে মোট 14টি স্যাক্সোফোন, সোপ্রানিনো থেকে কনট্রাবেস পর্যন্ত। B♭ আর E♭ সুরের যন্ত্রগুলো শিগগিরই মানদণ্ড হয়ে ওঠে। 1840 ও 1850-এর দশকে ফরাসি ও ব্রিটিশ সামরিক ব্যান্ড এগুলো গ্রহণ করে, কিন্তু অর্কেস্ট্রা কখনো স্যাক্সোফোনকে নিয়মিত সদস্য করেনি।
কেন নিউ অরলিন্সের কথা মনে আসে
জ্যাজ স্যাক্সোফোনকে বিখ্যাত করেছে, তাই অনেকে ধরে নেন এর জন্ম আমেরিকায়। আসলে এটি যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছায় ব্যান্ডের যন্ত্র হিসেবে: 19 শতকের শেষ দিকে ব্যান্ডলিডার প্যাট্রিক গিলমোর আর নেদারল্যান্ডসে জন্ম নেওয়া স্যাক্সোফোনবাদক এডওয়ার্ড লেফেবার সেখানে এর প্রচার করেন। 1900 সালের কাছাকাছি ভডেভিল ও র্যাগটাইম ব্যান্ড এটি তুলে নেয়, আর 1920-এর দশকের গোড়ায় নাচের ব্যান্ডগুলো। তারপরই কেবল কোলম্যান হকিন্স আর পরে চার্লি পার্কারের মতো বাদকেরা একে জ্যাজের অন্যতম মহান কণ্ঠে পরিণত করেন।
সূত্র: en.wikipedia.org › Saxophone ↗ · en.wikipedia.org › Adolphe Sax ↗ · brusselstimes.com ↗