অ্যান্থুরিয়াম (ফ্লেমিংগো ফুল) কোথা থেকে এসেছে?
অ্যান্থুরিয়াম, বা ফ্লেমিংগো ফুল, এসেছে দক্ষিণ-পশ্চিম কলম্বিয়া আর ইকুয়েডরের পাহাড়ি বন থেকে। এর চকচকে, হৃদয়াকৃতির ফুল হয়ে ওঠে হাওয়াইয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাটা ফুল, কিন্তু গাছটি দ্বীপে পৌঁছায় লন্ডন থেকে, মাত্র 1889 সালে।
আন্দিজের বনে বুনো
Anthurium andraeanum-এর আদি নিবাস ইকুয়েডর আর দক্ষিণ-পশ্চিম কলম্বিয়া। বুনো অবস্থায় এটি পাহাড়ি বনে অন্য গাছের গায়ে জন্মায়, আর সেখানে এর ‘হৃদয়’ কমলা-লাল আর ফোসকার মতো এবড়োখেবড়ো। এর নাম ফরাসি উদ্যানবিদ এদুয়ার আঁদ্রের নামে, যিনি 1870-এর দশকে কলম্বিয়া আর ইকুয়েডর ভ্রমণের সময় এটি খুঁজে পান; আন্দিজে তাঁর উদ্ভিদ-সংগ্রহ ইউরোপের বাগানে এনেছিল অনেক নতুন গাছ। আজকের চাষ করা অ্যান্থুরিয়াম, মসৃণ বা এবড়োখেবড়ো আর নানা রঙের, প্রায়ই বুনো প্রজাতি থেকে দেখতে বেশ আলাদা।
লন্ডন থেকে হাওয়াই
1889 সালে এস. এম. ডেমন লন্ডন থেকে হাওয়াইয়ে আনেন Anthurium andraeanum, আর এর স্প্যাথের রং বর্ণনা করেন ঝিনুকের মতো গোলাপি বলে। মোয়ানালুয়ায় ডেমনের জমিদারিতে এটি বেড়ে ওঠে, আর কাটিং হিসেবে ধীরে ধীরে ছড়ায় অন্য চাষিদের কাছে। 1930-এর দশকের শেষ আর 1940-এর দশকে হাওয়াইয়ের চাষিরা বীজ থেকে অ্যান্থুরিয়াম জন্মাতে শেখেন, যাতে বৈচিত্র্য বাড়ে, আর বাড়ির উঠোনের চাষিরা দ্বীপের ফুলের দোকানগুলোতে সরবরাহ শুরু করেন। 1950 সালে হারুয়ুকি কামেমোতোর শুরু করা গবেষণা থেকে এক প্রজনন কর্মসূচি গড়ে ওঠে, আর ফুলটি হয়ে ওঠে এক বড় বাণিজ্যিক ফসল।
হৃদয়টি পাপড়ি নয়
চকচকে লাল ‘হৃদয়’টি একটি স্প্যাথ, এক ধরনের মঞ্জরীপত্র বা রূপান্তরিত পাতা, যা ফুলের দণ্ডের নিচে থাকে। আসল ফুলগুলো থাকে সেই দণ্ডে, যার নাম স্প্যাডিক্স: ঘন সর্পিল সারিতে ঠাসা অসংখ্য ছোট্ট ফুল, প্রতিটিতে পুরুষ ও স্ত্রী দুই অংশই আছে, আর এগুলোতেই পরে বীজ হয়। এই গণের মধ্যে কেবল Anthurium andraeanum আর Anthurium scherzerianum-এরই উজ্জ্বল লাল স্প্যাথ হয়, আর হাওয়াই ও নেদারল্যান্ডসের প্রজননবিদেরা এদের দিয়েছেন আরও অনেক রং, স্যামন থেকে গোলাপি পর্যন্ত।
সূত্র: en.wikipedia.org › Anthurium andraeanum ↗ · en.wikipedia.org › Anthurium ↗ · en.wikipedia.org › Édouard André ↗ · apsnet.org ↗