চন্দ্রমল্লিকা কোথা থেকে এসেছে?
বাগানের চন্দ্রমল্লিকা এসেছে চীন থেকে, যেখানে মানুষ বহু শতাব্দী ধরে এর চাষ করেছে, প্রথমে ভেষজ ওষুধ হিসেবে, পরে ফুলের জন্য; তারপর গাছটি জাপানে পৌঁছে সেখানকার সম্রাটদের প্রতীক হয়ে ওঠে।
ওষুধ থেকে ফুলবাগানে
চন্দ্রমল্লিকার বেশির ভাগ প্রজাতি পূর্ব এশিয়ার, আর চীন এদের বৈচিত্র্যের কেন্দ্র। চীনা লেখায় চন্দ্রমল্লিকার বর্ণনা মেলে খ্রিস্টপূর্ব প্রায় 500 সাল থেকে, যখন এর কদর ছিল প্রথমে ঔষধি গাছ হিসেবে। খ্রিস্টীয় প্রায় 5 শতক থেকে সৌন্দর্যের জন্যও এর চাষ হতে থাকে। এ নিয়ে প্রথম বই, 1104 সালের লিউ মেংয়ের গ্রন্থ, চাষের 35টি জাতের তালিকা দেয়, আর 1630 সালের মধ্যে নথিভুক্ত হয় 500টিরও বেশি জাত। ফুলটি চীনা শিল্পকলার ‘চার ভদ্রজনে’র একটি হয়ে ওঠে।
কেন জাপানের কথা বলা হয়
চন্দ্রমল্লিকা জাপানে আসে চীন থেকে, আর নারা ও হেইয়ান যুগে, 8 থেকে 12 শতকের মধ্যে, জাপানিরা এর চাষ করছিলেন। সম্রাট গো-তোবা ফুলটির নকশা পছন্দ করতেন, আর ধারণা করা হয়, কামাকুরা যুগের গোড়ায় তিনিই একে রাজপরিবারের প্রতীকচিহ্ন বানান। মেইজি যুগে 16 পাপড়ির দোহারা চন্দ্রমল্লিকা হয়ে ওঠে সম্রাটের সরকারি প্রতীকচিহ্ন, আর রাজতন্ত্রকেই বলা হয় ‘চন্দ্রমল্লিকা সিংহাসন’। এদো যুগের চাষিরা অনেক নতুন জাত তৈরি করেন, যা পরে চীন আর ইউরোপে পৌঁছায়।
বিশ্বের জন্য এক সোনালি ফুল
chrysanthemum নামটি এসেছে গ্রিক chrysos (‘সোনা’) আর anthemon (‘ফুল’) থেকে। বণিক ও উদ্ভিদবিদ ইয়াকব ব্রাইনে 1689 সালে এর বর্ণনা দেন, আর 1792 সালে এক ফরাসি উদ্ভিদবিদ বড় বেগুনি ফুলের একটি জাতের বর্ণনা দেন, যা চীন থেকে নিয়ে এসেছিলেন মার্সেইয়ের নাবিক ব্লাঁকার। ইউরোপে চন্দ্রমল্লিকা ব্যাপকভাবে ছড়ায় কেবল 19 শতকে। 2026 সালের এক জিনোম গবেষণায় দেখা গেছে, আধুনিক জাতগুলোতে চীন আর জাপান, দুই দেশের বুনো চন্দ্রমল্লিকারই জিন আছে।
সূত্র: en.wikipedia.org › Chrysanthemum ↗ · en.wikipedia.org › Chrysanthemum × morifolium ↗ · nippon.com ↗ · pubmed.ncbi.nlm.nih.gov ↗