বাসেনজি (কুকুরের জাত) কোথা থেকে এসেছে?
বাসেনজি এসেছে মধ্য আফ্রিকার কঙ্গো অববাহিকার গ্রাম থেকে, যেখানে এটি বহুকাল ধরে স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়ানো গ্রামের কুকুর আর শিকারের সঙ্গী। এটিই সেই বিখ্যাত ‘ঘেউহীন’ কুকুর: অস্বাভাবিক গড়নের স্বরযন্ত্রের কারণে ঘেউ ঘেউ না করে এটি ইয়োডেলের মতো এক শব্দ করে।
গ্রামের শিকারি কুকুর
জাতটি গড়ে তোলা হয় মধ্য আফ্রিকায়, কঙ্গো অঞ্চল ও প্রতিবেশী ক্রান্তীয় দেশগুলোতে পাওয়া কুকুর থেকে। সেখানে বাসেনজিরা থাকত গ্রামের কুকুর হিসেবে, স্বাধীনভাবে ঘুরত আর কারও মালিকানায় ছিল না, আর 19 শতক নাগাদ গ্রামবাসীরা দক্ষ শিকারি হিসেবে এদের দিয়ে শিকারকে বড় বড় জালের দিকে তাড়িয়ে নিত। দক্ষিণ সুদানের আজান্দে জনগোষ্ঠী এদের বলে ango angari। খোদ basenji নামটির অনুবাদ হয়েছে নানাভাবে, যেমন ‘ঝোপের জিনিস’, ‘বুনো কুকুর’ আর ‘গ্রামবাসীদের কুকুর’।
জাতটিকে ইংল্যান্ডে আনা
বাসেনজিকে ইউরোপে আনা কঠিন প্রমাণিত হয়। 1895 সালে লন্ডনের ক্রাফটসে ‘আফ্রিকান বুশ ডগ’ বা ‘কঙ্গো টেরিয়ার’ নামে দেখানো এক জোড়া কুকুর অল্পদিনেই ডিসটেম্পারে মারা যায়, আর 1920-এর দশকে ইংল্যান্ডে আনা ছয়টি কুকুর ডিসটেম্পারের টিকা নেওয়ার পর মারা যায়। 1930-এর দশকে অবশেষে সফল হন অলিভিয়া বার্ন, এক ইংরেজ নারী, যিনি বেলজিয়ান কঙ্গোতে এই কুকুরদের দেখেছিলেন: কেনেল ক্লাব তাঁর আনা কুকুরগুলোকে ‘Basenji’ নামে নথিভুক্ত করে, আর 1937 সালে সেগুলো ক্রাফটসে দেখানো হয়। পশ্চিমা দুনিয়ার প্রায় সব বাসেনজি সম্ভবত এমন অল্প কয়েকটি আমদানি করা কুকুরের বংশধর।
কেন প্রাচীন মিশরের কথা মনে আসে
প্রাচীন মিশরের সমাধিতে আঁকা খাড়া কান আর কোঁকড়ানো লেজের ছোট কুকুরগুলোর সঙ্গে বাসেনজির খুব মিল, আর জাতটিকে যুক্ত করা হয়েছে তেসেম (tesem) নামের এক মিশরীয় কুকুরের সঙ্গে, যার ছবি আছে 4,500 বছর পর্যন্ত পুরোনো দেয়ালচিত্রে। ব্রিটানিকা বাসেনজিকে বিশ্বের প্রাচীনতম জাতগুলোর মধ্যে গণ্য করে, আর ডিএনএ গবেষণা একে ডিঙ্গোর সঙ্গে গৃহপালিত কুকুর পরিবারের মৌলিক সদস্যদের মধ্যে গণ্য করে, যারা আধুনিক জাতগুলোর চেয়ে পুরোনো। কিন্তু জীবিত জাতটি এসেছে মধ্য আফ্রিকার গ্রাম থেকেই।
সূত্র: en.wikipedia.org ↗ · britannica.com ↗ · basenji.org ↗