ড্রোমেডারি (এক কুঁজের উট) কোথা থেকে এসেছে?
ড্রোমেডারি, অর্থাৎ এক কুঁজের উটকে প্রথম পোষ মানানো হয় আরব উপদ্বীপের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে। এর বুনো পূর্বপুরুষেরা বহু আগেই বিলুপ্ত, তাই আজ এটি টিকে আছে কেবল গৃহপালিত বা পোষ ছেড়ে বুনো হয়ে যাওয়া প্রাণী হিসেবে, আফ্রিকা ও এশিয়াজুড়ে, এমনকি অস্ট্রেলিয়াতেও।
আরবে পোষ মানানো
একসময় আরব উপদ্বীপে বুনো ড্রোমেডারি বাস করত, আর সৌদি আরবের লোহিত সাগর উপকূলে খ্রিস্টপূর্ব 8,200 সালের একটি ড্রোমেডারির চোয়ালের হাড় পাওয়া গেছে। 2016 সালের এক গবেষণা বুনো ও আদি গৃহপালিত উটের প্রাচীন ডিএনএ তুলনা করে 1,083টি জীবিত উটের নমুনার সঙ্গে। দেখা যায়, উপদ্বীপের দক্ষিণ-পূর্বের বুনো ড্রোমেডারিরা ছিল গৃহপালিত পালের প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে। প্রথম পোষ মানানোর পরও এখন বিলুপ্ত বুনো জনসংখ্যা থেকে প্রাণীরা পালে যোগ দিতে থাকে, এমন এক ধারা যাকে গবেষকেরা বলেন ‘বুনো থেকে পুনর্ভরণ’।
মরুভূমির জন্য গড়া শরীর
বিখ্যাত কুঁজে জমা থাকে চর্বি, জল নয়: এটি তন্তুময় কলায় বাঁধা চর্বি, খাবার কম পেলে উট শক্তির জন্য যা ভেঙে নেয়, তাই ক্ষুধার্ত উটের কুঁজ একপাশে হেলে ঝুলে পড়ে। জল বাঁচানো হয় অন্য উপায়ে। ড্রোমেডারি নাসারন্ধ্র বন্ধ করতে পারে, দিনের বেলা তার শরীরের তাপমাত্রা 31 থেকে 41.7 °C-এর মধ্যে ওঠানামা করে যাতে ঘাম কম হয়, আর শরীরের জলের 30%-এর বেশি হারিয়েও সে বেঁচে থাকতে পারে। তারপর একবারে 100 লিটারেরও বেশি জল খেতে পারে।
কেন সাহারার কথা মনে আসে
উট মানেই সাহারার ছবি, আর আজ বিশ্বের 80%-এর বেশি ড্রোমেডারি আফ্রিকায়। কিন্তু ড্রোমেডারিকে প্রথম পোষ মানানো হয়েছিল আরবে। প্রত্নতত্ত্ব ও শিলাচিত্র দেখায়, বড়জোর খ্রিস্টপূর্ব 1500 সালের মধ্যে উত্তর আফ্রিকায় ড্রোমেডারি ছিল, তবে সাহারা আরও শুকিয়ে যাওয়ার আগে সেখানে এদের ব্যাপক ব্যবহার হয়নি। উত্তর আফ্রিকায় এদের প্রথম লিখিত উল্লেখ মেলে খ্রিস্টপূর্ব 46 সালে জুলিয়াস সিজারের অভিযানের বিবরণে। উত্তর আফ্রিকায় ইসলামি বিজয়ের পর বিপুল সংখ্যায় উট আমদানি হয়, আর সাহারা পেরিয়ে বাণিজ্য বাড়ে।
সূত্র: en.wikipedia.org ↗ · ilri.org ↗ · nottingham.ac.uk ↗ · animals.sandiegozoo.org ↗