চুল্লো (কান-ঢাকা বোনা টুপি) কোথা থেকে এসেছে?
চুল্লো এসেছে পেরু ও বলিভিয়ার আন্দিজ থেকে। আলপাকা, লামা, ভিকুনা বা ভেড়ার উলে বোনা, কান-ঢাকা পাল্লাওয়ালা এই টুপি উঁচু পাহাড়ের ঠান্ডা আটকায়, আর এর নকশা দেখে বোঝা যেতে পারে, যিনি পরেছেন তিনি কোথাকার মানুষ।
উঁচু আন্দিজের টুপি
Ch'ullu একটি কেচুয়া শব্দ; আইমারা ভাষায় টুপিটির নাম lluch'u, আর স্প্যানিশ একে বানিয়েছে chullo। এটি গোল করে বোনা হয় আলপাকা, লামা আর ভিকুনার মতো তন্তু দিয়ে, প্রথাগতভাবে দুই মুখ সরু পাঁচটি কাঁটায়, আর এর কান-ঢাকা পাল্লা থুতনির নিচে বাঁধা যায়। এর গা ঘিরে থাকে রঙের ডোরা বা স্থানীয় প্রাণীর নকশা, আর বলিভিয়ার আন্দিজে এসব দেখে বোঝা যেতে পারে পরিধানকারীর উৎস, বয়স, সামাজিক অবস্থান আর বৈবাহিক অবস্থা।
আন্দিজের হাত, নতুন কৌশল
1532 সালের স্প্যানিশ বিজয়ের আগে আন্দিজে কাঁটায় বোনা (নিটিং) অজানা ছিল। এটি আসে ঔপনিবেশিকদের সঙ্গে, আর আন্দিজের মানুষ একে গ্রহণ করে নিজেদের মতো করে নেন; পেরুর উত্তর উপকূলের ঔপনিবেশিক শহর মাগদালেনা দে কাও বিয়েখোতে খননে এমন বুনন পাওয়া গেছে, যা হয়তো আমেরিকা মহাদেশে টিকে থাকা সবচেয়ে পুরোনো নিটিং। টুপির আকারটি কোথা থেকে এসেছে, তা নিয়ে বিতর্ক আছে: কেউ ইঙ্গিত করেন প্রায় 600 খ্রিস্টাব্দের মোচে মৃৎপাত্রের মূর্তির দিকে, যাদের মাথায় কান-ঢাকা পাল্লাওয়ালা সুচালো টুপি, আবার কেউ 16 শতকের স্প্যানিশদের পরা টুপির দিকে।
কেন নেপালের কথা বলা হয়
একই রকম কান-ঢাকা টুপি হিমালয়ের সঙ্গে জড়িত, তাই নেপাল সহজ অনুমান। কিন্তু চুল্লো আন্দিজের। টিটিকাকা হ্রদের পেরুর দিকের দ্বীপ তাকিলেতে সব বয়সের নারী-পুরুষ রোজ বস্ত্র তৈরি করেন, আর চুল্লো সেখানকার সবচেয়ে বৈশিষ্ট্যপূর্ণ পোশাকগুলোর একটি। ইউনেস্কো 2005 সালে তাকিলে ও তার বস্ত্রশিল্পকে মানবজাতির অধরা ঐতিহ্যের অংশ ঘোষণা করে, আর 2008 সালে একে তার প্রতিনিধিত্বমূলক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে।
সূত্র: en.wikipedia.org ↗ · ich.unesco.org ↗ · digitalcommons.unl.edu ↗ · selvedge.org ↗