Whence
ভাঁজ করা পাখা
ফ্যাশন

ভাঁজ করা পাখা কোথা থেকে এসেছে?

ভাঁজ করা পাখা এসেছে জাপান থেকে, নারা ও কিয়োটোর রাজদরবারের সংস্কৃতি থেকে। 6 থেকে 9 শতকের মধ্যে কোনো এক সময়ে সেখানে এটি উদ্ভাবিত হয়, আর বহু শতাব্দী ধরে শক্ত পাখা ব্যবহার করে আসা চীন প্রথম এর দেখা পায় জাপানের উপহার হিসেবে।

সাইপ্রেসের পাত আর কাগজের ভাঁজ

ভাঁজ করা পাখা যখন দেখা দেয়, জাপানে তখন পরিচিত ছিল কেবল শক্ত পাখা, যেমন গোল উচিওয়া। গড়ে ওঠে দুই ধরনের পাখা। হিওগি ছিল সুতোয় বাঁধা সাইপ্রেস কাঠের পাতলা পাতের গোছা; কাওয়াহোরি-ওগিতে ছিল কম কাঠি, যার ওপর আঁকাবাঁকা ভাঁজ করা কাগজ। টিকে থাকা প্রাচীনতম ভাঁজ করা পাখা, 877 সালের এক হিওগি, পাওয়া গেছে কিয়োটোর তো-জি মন্দিরে। হেইয়ান যুগের সাহিত্যে, যেমন গেঞ্জির উপাখ্যানে, ভাঁজ করা পাখার উল্লেখ বারবার আসে, আর চোহো যুগে (999–1003) এগুলো এত জনপ্রিয় হয় যে আইন করে এর সাজসজ্জার জাঁকজমক সীমিত করা হয়।

সং সম্রাটের জন্য উপহার

সরকারি সং ইতিহাস অনুসারে, 988 সালে জাপানি ভিক্ষু চোনেন চীনা সম্রাটকে উপহার পাঠান কাঠের পাতের কুড়িটি পাখা আর কাগজের দুটি পাখা। চীনারা এগুলোকে বলত ‘জাপানি পাখা’, আর 11 শতকে কোরীয় দূতেরাও জাপানি বংশোদ্ভূত পাখা নিয়ে আসেন। দক্ষিণ সং আমলে ভাঁজ করা পাখা চীনে ফ্যাশনে আসে আর মিং রাজবংশের আমলে খুবই জনপ্রিয় হয়, আর চীনা কারিগরেরা যোগ করেন নিজস্ব এক নকশা, কেবল কাঠির তৈরি ব্রিজে (brisé) পাখা।

কেন বলা হয় চীন বা স্পেন

দুই দেশই পাখাকে আপন করে নিয়েছিল। 16 শতকে চীন ও জাপানে পৌঁছানো পর্তুগিজ বণিকেরাই সম্ভবত প্রথম চীনা ও জাপানি ভাঁজ করা পাখা ইউরোপে নিয়ে আসেন। স্পেনে মাদ্রিদ হয়ে ওঠে পাখা তৈরির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র, আর 18 শতকের মধ্যে ভালেনসিয়া হয় দেশটির পাখা-শিল্পের রাজধানী। স্পেনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ‘পাখার ভাষা’ও, প্রেমের ইশারার এক গোপন সংকেত, কিন্তু ইতিহাসবিদেরা এখন সেই সংকেতকে মূলত পাখা-নির্মাতাদের 19 শতকের এক বিক্রির কৌশল হিসেবে দেখেন।

সূত্র: en.wikipedia.org ↗ · ja.wikipedia.org ↗ · gov-online.go.jp ↗ · thestar.com.my ↗

আরও পোশাক ও ফ্যাশন

ফ্যাশন

বিলুম (জালের থলি)

📍 নিউ গিনি (পাপুয়া নিউ গিনি)

বিলুম এক প্রসারণশীল জালের থলি, যা নিউ গিনির নারীরা গাছের ছালের আঁশ দিয়ে হাতে ফাঁস দিয়ে বোনেন। উচ্চভূমির নারীরা এর ফিতে কপালে আর থলি পিঠে ঝুলিয়ে 20 কেজি পর্যন্ত মিষ্টি আলু, ইয়াম বা জ্বালানি কাঠ বয়ে নেন।

পানামা হ্যাট
ফ্যাশন

পানামা হ্যাট

📍 ইকুয়েডর (মন্তেক্রিস্তি থেকে কুয়েনকা)

পানামা হ্যাট বোনা হয় ইকুয়েডরে, তোকিয়া পামের খড় দিয়ে। ভুল নামটি জোটে কারণ ভ্রমণকারীরা, যাঁদের মধ্যে যোজক পার হওয়া গোল্ড রাশের সোনা-সন্ধানীরাও ছিলেন, এগুলো কিনতেন পানামায়। 2012 সালে ইউনেস্কো এই বুননশিল্পকে তালিকাভুক্ত করে।

নেকটাই (ক্র্যাভ্যাট)
ফ্যাশন

নেকটাই (ক্র্যাভ্যাট)

📍 ক্রোয়েশিয়া (হাবসবুর্গ সামরিক সীমান্ত)

নেকটাইয়ের শুরু ত্রিশ বছরের যুদ্ধের (1618–1648) সময় ফ্রান্সে কর্মরত ক্রোয়েশীয় সৈন্যদের গিঁট দেওয়া গলার স্কার্ফ থেকে। প্যারিসবাসীরা এগুলো অনুকরণ করে ‘Croates’ থেকে নাম দেয় ‘cravates’। ক্রোয়েশিয়া এখন 18 অক্টোবর ক্র্যাভ্যাট দিবস পালন করে।

এশিয়া থেকে আরও গল্প

আয়রান (নোনতা দইয়ের পানীয়)
পানীয়

আয়রান (নোনতা দইয়ের পানীয়)

📍 মধ্য এশিয়া

ঠান্ডা জল আর এক চিমটি নুন দিয়ে ফেটানো দই, আয়রানকে প্রায়ই তুরস্কের জাতীয় পানীয় বলা হয়, কিন্তু এটি গড়ে তুলেছিল মধ্য এশিয়ার তুর্কি গোত্রগুলো। 11 শতকের এক তুর্কি অভিধানেই এর সংজ্ঞা ‘দুধ থেকে বানানো পানীয়’।

চন্দ্রমল্লিকা
উদ্ভিদ

চন্দ্রমল্লিকা

📍 চীন

বাগানের চন্দ্রমল্লিকা জাপানে পৌঁছানোর আগে বহু শতাব্দী ধরে চীনে প্রজনন করা হয়। জাপানে ফুলটি সম্রাটের প্রতীক হয়ে ওঠে, তাই জাপানের রাজতন্ত্রকে বলা হয় ‘চন্দ্রমল্লিকা সিংহাসন’।

Kumquat (ইংরেজি শব্দ)
শব্দ

Kumquat (ইংরেজি শব্দ)

📍 গুয়াংডং (ক্যান্টন), চীন

Kumquat ক্যান্টনিজে ‘সোনালি কমলা’। ছোট ফলটি খোসাসহ আস্ত খাওয়া হয়: খোসা মিষ্টি অংশ আর শাঁস টক। উদ্ভিদ-সন্ধানী রবার্ট ফরচুন 1846 সালে এটি ইউরোপে আনেন।