আয়রান (নোনতা দইয়ের পানীয়) কোথা থেকে এসেছে?
আয়রান এসেছে মধ্য এশিয়া থেকে, যেখানে তুর্কি জাতিগোষ্ঠীগুলো প্রথম এটি বানায়। দই, জল আর এক চিমটি নুনের এই ঠান্ডা মিশ্রণ তাদের সঙ্গে পশ্চিমে পাড়ি দেয়, আর আজ একে প্রায়ই তুরস্কের জাতীয় পানীয় বলা হয়।
স্তেপের যাযাবরদের পানীয়
আয়রান গড়ে তুলেছিল মধ্য এশিয়ার তুর্কি গোত্রগুলো। স্তেপ, অর্থাৎ যে বিশাল, বৃক্ষহীন তৃণভূমিকে তারা ঘর বলত, সেখানকার যাযাবর হিসেবে তারা দুধ থেকে বানাত দই, পনির আর আয়রানের মতো গাঁজানো খাবার, যা লম্বা যাত্রায় টাটকা দুধের চেয়ে অনেক বেশি দিন টিকত। মনে করা হয়, তুর্কি জাতিগোষ্ঠীগুলো অন্তত এক হাজার বছর ধরে আয়রান বানিয়ে আসছে। এর নাম এসেছে প্রাচীন তুর্কি ধাতু adır-, অর্থাৎ ‘আলাদা করা’ থেকে, যা তুরস্কের তুর্কি ভাষায় ayır- রূপে টিকে আছে।
প্রথম তুর্কি অভিধানে
আয়রানের দেখা মেলে দিওয়ান লুগাত আল-তুর্কেই, তুর্কি ভাষাগুলোর প্রথম জানা অভিধানে, যা 11 শতকে লেখেন মাহমুদ আল-কাশগারি। এতে আয়রানের সংজ্ঞা কেবল ‘দুধ থেকে বানানো পানীয়’, কীভাবে বানানো হতো সে বিষয়ে কিছু বলা নেই। তুরস্কের ভাষাবিদ বেসিম আতালায় আয়রানের শিকড় এই বই পর্যন্ত খুঁজে বের করতে সাহায্য করেন। আত্মীয় শব্দগুলো অন্যত্রও টিকে আছে: চুভাশ ভাষায় uyran মানে ঘোল।
কেন বলা হয় তুরস্ক
তুর্কিরা যখন মধ্য এশিয়া থেকে আনাতোলিয়ায় পাড়ি জমায়, আয়রানও তাদের সঙ্গে আসে, আর পুরোনো ভ্রমণবৃত্তান্তে আনাতোলিয়ার মানুষদের দই বা আয়রান দিয়ে রুটি খাওয়ার বর্ণনা আছে। আজ এটি তুরস্কের এক জাতীয় পানীয়, সুপারমার্কেট থেকে রাস্তার বিক্রেতার পিপে পর্যন্ত সর্বত্র বিক্রি হয়, পরিবেশন করা হয় কাবাবের সঙ্গে, কখনো তামার পাত্রে। তবে এটি কেবল তুরস্কের নয়: আয়রান পান করা হয় মধ্য এশিয়া, বলকান আর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে, আর বুলগেরিয়ার বেশির ভাগ রেস্তোরাঁর মেনুতে এটি থাকে।
সূত্র: en.wikipedia.org ↗ · cnn.com ↗