ওয়েলিংটন বুট (ওয়েলিজ) কোথা থেকে এসেছে?
ওয়েলিংটন বুট এসেছে ইংল্যান্ডের লন্ডন থেকে। এর নাম ওয়েলিংটনের 1ম ডিউকের নামে, যাঁর লন্ডনের জুতো-নির্মাতা 19 শতকের গোড়ায় তাঁর জন্য এক সামরিক ঘোড়সওয়ারি বুট নতুন করে গড়েন। জলরোধী রাবারের ‘ওয়েলি’ এসেছে কয়েক দশক পরে।
ডিউকের নতুন বুট
ওয়েলিংটনের 1ম ডিউক আর্থার ওয়েলেসলি লন্ডনের সেন্ট জেমস স্ট্রিটের তাঁর জুতো-নির্মাতা হবিকে বলেন হেসিয়ান বুট বদলে দিতে; এটি ছিল 18 শতকের এক সামরিক বুট, যার মাথায় ঝুলত একটি ঝালর। নতুন বুট তৈরি হয় নরম বাছুরের চামড়ায়, সাজসজ্জা বাদ দিয়ে, প্রায় এক ইঞ্চির গোড়ালি আর পায়ে আরও আঁটসাঁট মাপে, শেষ হতো পায়ের গোছের মাঝামাঝি। ঘোড়ায় চড়ার জন্য যথেষ্ট মজবুত, আবার সন্ধ্যার পোশাকের সঙ্গে পরার মতো সুদর্শনও। জর্জ হবির তৈরি এক জোড়া আজও আছে কেন্টের ওয়ালমার ক্যাসলে।
চামড়া থেকে রাবার
1815 সালে ওয়াটারলুতে ওয়েলিংটনের জয়ের পর লন্ডনের অভিজাত সমাজে এই ধাঁচ দারুণ ফ্যাশনে আসে। দেশপ্রেমিক ভদ্রলোকেরা তাঁদের যুদ্ধনায়ককে অনুকরণ করতেন, বো ব্রামেলের মতো শৌখিন বাবুরা এটি পরতেন, আর 1840-এর দশক পর্যন্ত এটিই ছিল পুরুষদের প্রধান ফ্যাশন। এরপর আসে রাবার। 1852 সালে হাইরাম হাচিনসন চার্লস গুডইয়ারের ভালকানাইজড রাবারে জুতো বানানোর অধিকার কেনেন, আর 1853 সালে ফ্রান্সে একটি কারখানা খোলেন, যেখানে কাঠের জুতোয় অভ্যস্ত কৃষকেরা জলরোধী বুট সঙ্গে সঙ্গে লুফে নেন।
কেন বলা হয় নিউজিল্যান্ডের ওয়েলিংটন
নিউজিল্যান্ডের রাজধানীর নামও একই মানুষের নামে। নিউজিল্যান্ড কোম্পানির বসতি স্থাপনকারীরা 1840 সালের নভেম্বরে ওয়েলিংটনের নাম রাখেন, কোম্পানির পরিকল্পনায় সমর্থনের জন্য ডিউককে সম্মান জানিয়ে; আর ডিউকের নিজের উপাধি এসেছে ইংল্যান্ডের সমারসেটের ওয়েলিংটন শহর থেকে। নিউজিল্যান্ডে রাবারের বুটকে বলে গামবুট, আর গ্রামীণ শহর তাইহাপে নিজেকে বলে ‘বিশ্বের গামবুট রাজধানী’, যেখানে আছে ঢেউটিনের বিশাল এক গামবুট আর গামবুট ছোড়ার প্রতিযোগিতা।
সূত্র: en.wikipedia.org › Wellington boot ↗ · ageofrevolution.waterlooassociation.org.uk ↗ · en.wikipedia.org › Wellington ↗ · en.wikipedia.org › Taihape ↗ · teara.govt.nz ↗