আতশবাজি কোথা থেকে এসেছে?
আতশবাজি এসেছে চীন থেকে। সেখানকার মানুষ প্রথমে আগুনে বাঁশ ছুড়ে শব্দ করত, তারপর নলে বারুদ ভরে, আর সুং রাজবংশের (960–1279) আমলে তারা বানায় প্রথম পটকা আর প্রথম আতশবাজির প্রদর্শনী।
জ্বলন্ত বাঁশ থেকে বারুদ
হান রাজবংশের আমলে (খ্রিস্টপূর্ব 202 – 220 খ্রিস্টাব্দ) চীনের মানুষ বাঁশের কাণ্ড আগুনে ছুড়ে দিত, যাতে সেগুলো জোরালো শব্দে ফাটে। বারুদ এসেছে অনেক পরে: এর প্রথম নিশ্চিত উল্লেখ তাং রাজবংশের আমলের 808 সালের একটি সূত্র, আর খুব সম্ভবত এটি ওষুধ নিয়ে পরীক্ষার সময় দুর্ঘটনাক্রমে আবিষ্কৃত হয়। এর চীনা নাম huoyao, অর্থাৎ ‘আগুনের ওষুধ’। তারপর ছোট পাত্রে ভরা বারুদ দিয়ে জ্বলন্ত বাঁশের শব্দ নকল করা হতে থাকে, আর দুটিকেই বলা হতো baozhu, অর্থাৎ ‘ফাটন্ত বাঁশ’।
সুং রাজবংশের পটকা
সুং রাজবংশের আমলে মানুষ প্রথম পটকা বানায়: পাকানো কাগজের নল, ভেতরে বারুদ, সঙ্গে সলতে। তারা এগুলো একসঙ্গে বেঁধে লম্বা গুচ্ছও বানাত, যার নাম ছিল bian, অর্থাৎ ‘চাবুক’, যাতে একটার পর একটা ফাটে। সাধারণ মানুষ বাজারের বিক্রেতাদের কাছ থেকে পটকা কিনতে পারত, আর জমকালো প্রদর্শনীও হতো। সুংদের পুরোনো রাজধানী নিয়ে লেখা একটি স্মৃতিকথা, যার ভূমিকায় তারিখ 1147, বর্ণনা করে এক বড় আতশবাজি প্রদর্শনীর, যা সেনাবাহিনী 1110 সালে সম্রাট হুইজংয়ের মনোরঞ্জনের জন্য আয়োজন করেছিল।
রং আর পশ্চিমের পথ
1280 সালের দিকে সিরীয় লেখক হাসান আল-রাম্মাহ রকেট আর আতশবাজির এমন বর্ণনা দেন, যা থেকে মনে হয় তিনি এগুলোর কথা জেনেছিলেন চীনা উৎস থেকে। 14 শতকের মধ্যে ইউরোপ আতশবাজি বানাতে শুরু করে, আর 17 শতকের মধ্যে সেখানে এটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। চীনা কারিগরেরা রঙের জন্য বিখ্যাত ছিলেন: 1753 সালের একটি চীনা বইয়ে কপার অ্যাসিটেট দিয়ে শিখা সবুজ করা হয়েছিল। 1797 সালের দিকে ইংরেজ ভূগোলবিদ জন ব্যারো লেখেন, আগুনকে নানা রঙের ‘পোশাক পরানোর চীনা রহস্য’ই ছিল তাদের আতশবাজির প্রধান গুণ।
সূত্র: en.wikipedia.org › Fireworks ↗ · en.wikipedia.org › Gunpowder ↗ · ssec.si.edu ↗