টেলিস্কোপ (দূরবিন) কোথা থেকে এসেছে?
টেলিস্কোপ এসেছে নেদারল্যান্ডস থেকে। এর প্রাচীনতম নথি হলো মিডলবার্গের চশমা নির্মাতা হান্স লিপারহেয়ের 1608 সালের অক্টোবরে করা একটি পেটেন্ট আবেদন, এমন এক যন্ত্রের জন্য যা দিয়ে ‘দূরের জিনিস কাছের মতো দেখা যায়’।
মিডলবার্গের এক দূরবিন
লিপারহেয় 1570 সালের কাছাকাছি জন্মান ভেজেলে, যা এখন জার্মানিতে, আর 1594 সালে জিল্যান্ডের রাজধানী মিডলবার্গে থিতু হন, যেখানে তিনি লেন্স ঘষার ওস্তাদ কারিগর হয়ে ওঠেন। 1608 সালের 2 অক্টোবর তিনি ডাচ সরকার, স্টেটস জেনারেলের কাছে পেটেন্ট চান। তাঁর যন্ত্রটি ছিল একটি নলের ভেতরে একটি উত্তল আর একটি অবতল লেন্স, যা প্রায় তিন গুণ বড় করে দেখাত। কয়েক সপ্তাহ পরে আলকমারের ইয়াকব মেটিয়াসও আবেদন করেন। স্টেটস জেনারেল মনে করে, যন্ত্রটি এত সহজে নকল করা যায় যে পেটেন্ট দেওয়া চলে না, তবে দুই চোখে দেখার সংস্করণ বানাতে লিপারহেয়কে মোটা অঙ্কের টাকা দেয়।
খবর ছড়ায় দ্রুত
খবরটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, তাতে সাহায্য করে শ্যামের রাজার পাঠানো এক দূতদলের হেগ সফর নিয়ে ব্যাপকভাবে প্রচারিত একটি প্রতিবেদন, যার শেষে নতুন যন্ত্রটির উল্লেখ ছিল। 1609 সালের এপ্রিলের মধ্যে ফ্রান্সের চশমার দোকানে তিন গুণ ক্ষমতার দূরবিন বিক্রি হচ্ছিল, আর আগস্টের শুরুতে ইংরেজ টমাস হ্যারিয়ট ছয় গুণ ক্ষমতার একটি দিয়ে চাঁদ পর্যবেক্ষণ করেন। ধারণাটি প্রথম কার মাথায় এসেছিল, তা আজও স্পষ্ট নয়: মিডলবার্গেরই আরেকজন, সাখারিয়াস ইয়ানসেনের কাছেও প্রায় একই সময়ে একটি টেলিস্কোপ ছিল বলে মনে হয়, আর সে যুগের কারিগরেরা খুব কম নথি রেখে গেছেন।
কেন ইতালির (গ্যালিলিও) কথা মনে আসে
গ্যালিলিও টেলিস্কোপকে বিখ্যাত করেছিলেন, কিন্তু আবিষ্কার করেননি। তিনি 1609 সালে ডাচ দূরবিনের কথা শোনেন, জুন বা জুলাইয়ে তিন গুণ ক্ষমতার একটি বানান, আর অক্টোবর বা নভেম্বরের মধ্যে বিশ গুণ ক্ষমতার এক যন্ত্র আকাশের দিকে তাক করছিলেন। তিনি চাঁদে পাহাড় ও উপত্যকা দেখেন, বৃহস্পতির চারটি উপগ্রহ আবিষ্কার করেন এবং 1610 সালের মার্চে তাঁর পর্যবেক্ষণ প্রকাশ করেন। এমনকি নামটিও এসেছে তাঁর বৃত্ত থেকে: ‘telescope’, গ্রিক ভাষায় ‘দূরদর্শী’, প্রস্তাবিত হয় 1611 সালে আকাদেমিয়া দেই লিনচেইতে গ্যালিলিওকে স্বাগত জানাতে আয়োজিত এক ভোজসভায়।
সূত্র: en.wikipedia.org › History of the telescope ↗ · en.wikipedia.org › Hans Lipperhey ↗ · web.archive.org ↗