আংক্লুং (বাঁশের ঝাঁকানো বাদ্যযন্ত্র) কোথা থেকে এসেছে?
আংক্লুং এসেছে ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম জাভা থেকে, সুন্দানি জনগোষ্ঠীর দেশ থেকে। বাঁশের এই যন্ত্রগুলোর প্রতিটি ঝাঁকালে বাজে একটিমাত্র সুর, তাই একটি গান বাজাতে লাগে পুরো একদল বাদক, যাঁরা প্রত্যেকে ঠিক সময়ে নিজের সুরটি বাজান।
ফ্রেমে বাঁধা বাঁশের নল
একটি আংক্লুং তৈরি হয় দুই থেকে চারটি বাঁশের নল দিয়ে, যা বাঁশের ফ্রেমে ঝোলানো আর বেতের দড়িতে বাঁধা থাকে। একজন ওস্তাদ কারিগর নলগুলো চেঁছে কেটে এমনভাবে তৈরি করেন যাতে প্রতিটি একটি নির্দিষ্ট সুর দেয়, অনেকটা হ্যান্ডবেলের মতো অক্টেভে বাঁধা। বাদক এক হাতে ফ্রেমের গোড়া ধরে অন্য হাতে ঝাঁকান, তাতে একটি সুর বারবার বাজতে থাকে। বিশেষ কালো বাঁশটি কাটা হয় বছরের সেই দুই সপ্তাহে, যখন সিকাডা পোকা গান গায়।
শত শত বছরের সুন্দানি সংগীত
আংক্লুংয়ের শুরু আজকের পশ্চিম জাভা ও বান্তেন প্রদেশে, আর সুন্দানিরা বহু শতাব্দী ধরে এটি বাজিয়ে আসছে গ্রামের নানা অনুষ্ঠানে, যেমন ধান রোপণ আর ফসল তোলায়। টিকে থাকা প্রাচীনতম আংক্লুং, আংক্লুং গুব্রাগ, তৈরি হয়েছিল 17 শতকে, বোগোর এলাকার জাসিঙ্গায়। বান্তেনে বাদুই জনগোষ্ঠী আজও তাদের ফসল তোলার অনুষ্ঠানে প্রাচীন এক রূপ, আংক্লুং বুহুন, বাজায়।
গ্রাম থেকে অর্কেস্ট্রায়
প্রথাগত আংক্লুংয়ে পাঁচ সুরের স্কেল ব্যবহার হয়। 1938 সালে বান্দুংয়ের সংগীতজ্ঞ দায়েং সুতিগনা পশ্চিমা ডায়াটোনিক স্কেলে বাঁধা আংক্লুং বানান, যাতে প্রায় যেকোনো সুর বাজানো যায়, এমনকি অর্কেস্ট্রাতেও যোগ দেওয়া যায়; তাঁর সম্মানে এগুলোকে বলা হয় আংক্লুং পাদায়েং। 1966 সালে তাঁর ছাত্র উজো ঙালাগেনা আর তাঁর স্ত্রী উউম সুমিয়াতি বান্দুংয়ে খোলেন সাউং আংক্লুং উজো, যন্ত্রটি আর এর কারিগরির একটি কেন্দ্র। ইউনেস্কো 2010 সালের 18 নভেম্বর আংক্লুংকে অধরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় তোলে।
সূত্র: en.wikipedia.org ↗ · ich.unesco.org ↗ · guinnessworldrecords.com ↗