শেকেরে (পুঁতির লাউয়ের ঝুনঝুনি) কোথা থেকে এসেছে?
শেকেরে এসেছে ইয়োরুবাল্যান্ড থেকে, দক্ষিণ-পশ্চিম নাইজেরিয়া আর প্রতিবেশী বেনিনে ইয়োরুবা জনগোষ্ঠীর দেশ থেকে। এটি পুঁতি বা কড়ির জালে মোড়া একটি শুকনো লাউ, যা আটলান্টিক পেরিয়ে কিউবা ও ব্রাজিলের সংগীতের এক চেনা আওয়াজ হয়ে উঠেছে।
ইয়োরুবাদের ঝুনঝুনি
নামটি ইয়োরুবা: ṣẹ̀kẹ̀rẹ̀। 1852 সালে ইয়োরুবা পণ্ডিত স্যামুয়েল আজায়ি ক্রাউথার প্রকাশ করেন A Vocabulary of the Yoruba Language, আর তাতেই sekere-র বর্ণনা আছে ‘জালের মতো বিনুনি করা কড়িতে ঢাকা লাউয়ের খোল, যা ঢোল হিসেবে ব্যবহার হয়’। আজ যন্ত্রটি পশ্চিম আফ্রিকাজুড়ে প্রচলিত। ঘানায় একে বলে axatse, আর ফিলাডেলফিয়ার পেন মিউজিয়ামে আছে বোতল-গলা লাউয়ে তৈরি একটি ঘানার শেকেরে, যার সুতোর জালে চার সারি খোল লাগানো।
লাউ, জাল আর পুঁতি
শেকেরের শুরু মাটিতে লতিয়ে চলা এক লতার লাউ থেকে, আর লাউয়ের আকারই ঠিক করে দেয় এর আওয়াজ। লাউটি কয়েক মাস শুকানো হয়, তারপর শাঁস আর বীজ বের করে খোলটি ঘষে পরিষ্কার করা হয়, তারপর লাগানো হয় পুঁতির কাজ আর রং। বাদকেরা এটি ঝাঁকান অথবা হাতের তালুতে ঠোকেন। কবজি মোচড়ালে লাউটি ঘোরে কিন্তু পুঁতিগুলো জায়গায় থাকে, আর সেই ঘর্ষণে এমন আওয়াজ ওঠে যা সাধারণ ঝাঁকুনির থেকে একেবারে আলাদা।
কেন বলা হয় কিউবা বা ব্রাজিল
অনেকে শেকেরের আওয়াজ প্রথম শোনেন লাতিন সংগীতে। কিউবায় চেকেরে, যার আরেক নাম আগ্গুয়ে, প্রায় 50 সেমি লম্বা এক বড় লাউ, প্রায় পুরোটাই রঙিন পুঁতি গাঁথা দড়ির জালে ঢাকা, আর আফ্রো-কিউবান সংগীতে এটি ব্যাপকভাবে বাজানো হয়; কিউবার লাউ-বাদ্যের দলগুলো গড়ে উঠেছিল কাবিলদো থেকে, দ্বীপে আনা ক্রীতদাস আফ্রিকানদের সমিতি থেকে। ব্রাজিলে একই ঝুনঝুনির নাম শেকেরে (xequerê), পুঁতি বা ছোট প্লাস্টিকের বলের জালে মোড়া একটি লাউ।
সূত্র: en.wikipedia.org › Shekere ↗ · archive.org ↗ · collections.penn.museum ↗ · en.wikipedia.org › Abwe ↗