কঙ্গোলিজ রুম্বা (সংগীত) কোথা থেকে এসেছে?
কঙ্গোলিজ রুম্বা এসেছে কিনশাসা আর ব্রাজাভিল থেকে, কঙ্গো নদীর দুই পারে মুখোমুখি যমজ রাজধানী থেকে। এটি সেখানে রূপ পায় 1940 ও 1950-এর দশকে, যখন স্থানীয় ব্যান্ডগুলো নিজেদের মারিঙ্গা নাচের গানের সঙ্গে মেশায় কিউবান রেকর্ড, আর পরে এটি গোটা আফ্রিকার জনপ্রিয় সংগীতকে প্রভাবিত করে।
বারে মারিঙ্গা
এর শিকড় মারিঙ্গায়, পুরোনো লোয়াঙ্গো রাজ্যের বাকঙ্গো জনগোষ্ঠীর জুটি-নাচ, যা বাজানো হতো চামড়ায় মোড়া ছোট ফ্রেম ড্রাম, ট্রায়াঙ্গলের মতো বাজানো একটি বোতল আর likembe দিয়ে। 1920 থেকে 1940-এর দশকের মধ্যে মারিঙ্গা ব্রাজাভিল আর লেওপোল্ডভিলে, কিনশাসার তখনকার নামে, নিয়ে আসে বারে নাচের সংস্কৃতি, আর ব্যান্ডে যোগ হয় অ্যাকর্ডিয়ন ও অ্যাকুস্টিক গিটার। 1941 সালে পল কাম্বা প্রতিষ্ঠা করেন Victoria Brazza, যার আধুনিক ও ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্রের মিশ্রণ হয়ে ওঠে আধুনিক কঙ্গোলিজ রুম্বার ভিত।
কিউবান রেকর্ড, স্থানীয় সুর
1933 সাল থেকে His Master's Voice লেবেল তাদের GV সিরিজে কিউবান সোন রেকর্ড আফ্রিকায় রপ্তানি করত, আর 1940-এর দশকের গোড়ায় লেওপোল্ডভিলের রেডিও কঙ্গো বেলজ বাজাত Trio Matamoros-এর মতো দলের গান। কঙ্গোলিজ সংগীতশিল্পীরা পিয়ানোর অংশ, ড্রামের ছন্দ আর ট্রাম্পেটের লাইন তুলে আনেন ইলেকট্রিক গিটার আর স্যাক্সোফোনে, কখনো কখনো স্প্যানিশ গাইতেন কেবল শব্দের ধ্বনি অনুসরণ করে, তারপর সংগীতটিকে ভরিয়ে তোলেন স্থানীয় ছন্দ আর সুরে। 1940-এর দশকের শেষে স্থানীয় স্টুডিও চালু হয়, আর 1948 সালে এনগোমায় রেকর্ড করা ওয়েন্দোর ‘Marie-Louise’ আন্তর্জাতিক হিট হয়।
মানুষ কেন কিউবার কথা ভাবে
কিউবা এই গল্পের অংশ, কিন্তু কিউবান রুম্বার সঙ্গে মারিঙ্গার কোনো আসল যোগ ছিল না। এই সংগীত নামটি পায়, কারণ আমদানি করা সোন রেকর্ডে প্রায়ই ভুল করে ‘rumba’ লেবেল থাকত, আর কঙ্গোলিজ শ্রোতারা সব কিউবান সংগীতকেই ওই নামে ডাকতে শুরু করেন। আদানপ্রদান চলেছিল দুই দিকেই: কিউবায় নিয়ে যাওয়া প্রথম দিকের দাস বানানো আফ্রিকানদের অনেকেই ছিলেন বান্টু জনগোষ্ঠীর, তাঁদের মধ্যে কঙ্গো জাতির মানুষও। 1960-এর দশক থেকে কঙ্গোলিজ রুম্বা বিকশিত হয় সুকুসে, আর 2021 সালের ডিসেম্বরে ইউনেস্কো একে দুই কঙ্গোরই ঐতিহ্য হিসেবে তালিকাভুক্ত করে।
সূত্র: en.wikipedia.org › Congolese rumba ↗ · ich.unesco.org ↗ · en.wikipedia.org › Wendo Kolosoy ↗