তবলা (হাতে বাজানো জোড়া ঢোল) কোথা থেকে এসেছে?
তবলা এসেছে উত্তর ভারতের দিল্লির আশেপাশ থেকে। হাতে বাজানো এই জোড়া ঢোল সেখানে রূপ পায় 18 শতকে, আর তখন থেকেই এটি হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সংগীতের প্রধান তালবাদ্য, কালো ফোঁটাওয়ালা ছাউনির ঝংকৃত আওয়াজের জন্য যার কদর।
পুরোনো ভাবনা, নতুন জোড়া
দক্ষিণ এশিয়ায় ঢোল অতি প্রাচীন: ভাজা গুহার খ্রিস্টপূর্ব 2 শতকের এক খোদাইয়ে দেখা যায়, এক নারী এক জোড়া ছোট ঢোল বাজাচ্ছেন। কিন্তু আজ যেভাবে বাজানো হয়, সেই তবলা বেশ নবীন। এর স্পষ্ট ছবি পাওয়া যায় কেবল প্রায় 1745 সাল থেকে, আর এর আকার বিকশিত হতে থাকে 19 শতকের গোড়া পর্যন্ত। গ্রিনেল কলেজের বাদ্যযন্ত্র সংগ্রহের মতে, জোড়াটি সম্ভবত গড়ে ওঠে 18 শতকের দ্বিতীয়ার্ধে দিল্লির মুঘল দরবারে।
সিদ্ধার খাঁ আর দিল্লি ঘরানা
ঐতিহাসিক নথিতে তবলার সঙ্গে যুক্ত প্রাচীনতম নাম সিদ্ধার খাঁ ঢাড়ি, যিনি 18 শতকে প্রতিষ্ঠা করেন তবলার প্রাচীনতম ধারা দিল্লি ঘরানা। তিনি শুরু করেছিলেন পিপের আকারের ঢোল পাখোয়াজের বাদক হিসেবে, আর তাঁর ঘরানা হালকা ‘দুই আঙুলের’ বাদনশৈলী আর কায়দার মতো নতুন রূপ দিয়ে তবলাকে পাখোয়াজ থেকে আলাদা করে; কায়দা হলো একটি বিষয় আর তার নানা বিস্তার। তাঁর উত্তরসূরিরা পরে আরও ঘরানা প্রতিষ্ঠা করেন, তার মধ্যে লখনউ, আজরাড়া, ফারুখাবাদ আর বেনারস।
যে কালি তবলাকে গাওয়ায়
প্রতিটি ছাউনিতে থাকে সিয়াহি (‘কালি’) নামের এক কালো বৃত্ত, যা গড়ে তোলা হয় চাল বা গমের শ্বেতসারের সঙ্গে কালো গুঁড়ো মেশানো মণ্ডের স্তরে স্তরে; কোনো কোনো প্রণালীতে থাকে লোহার গুঁড়োও। এটি ঢোলগুলোকে দেয় স্পষ্ট সুর আর ঘণ্টার মতো অনুরণন। ডান হাতের ছোট ঢোলটি, সাধারণত কাঠের, হাতুড়ি আর কাঠের গুলি দিয়ে বাঁধা হয় একক শিল্পীর মূল সুরে, আর বাঁ হাতের বড় ঢোলটি, প্রায়ই পিতল বা তামার, দেয় নিচু খাদের আওয়াজ। বাদকেরা প্রতিটি আঘাত শেখেন মুখে বলা এক একটি বোল হিসেবে।
সূত্র: en.wikipedia.org › Tabla ↗ · en.wikipedia.org › Delhi gharana ↗ · britannica.com ↗ · omeka-s.grinnell.edu ↗