রেগে (সংগীত) কোথা থেকে এসেছে?
রেগে এসেছে জ্যামাইকার কিংস্টন থেকে। 1960-এর দশকের শেষ দিকে, মূলত পশ্চিম কিংস্টনের গরিব পাড়াগুলোতে, এটি জন্ম নেয় স্কা আর রকস্টেডি থেকে, আর এর নাম এসেছে টুটস অ্যান্ড দ্য মেটালসের 1968 সালের এক গান থেকে।
স্কা, রকস্টেডি, তারপর রেগে
1950-এর দশকের শেষে জ্যামাইকার স্টুডিওগুলো আমেরিকান রিদম অ্যান্ড ব্লুজের সঙ্গে জ্যামাইকার লোকসংগীত মেন্টো মিশিয়ে তৈরি করে স্কা। 1962 সালের স্বাধীনতার পর তরুণ জ্যামাইকানরা স্কাকেই নিজেদের সংগীত হিসেবে বেছে নেয়। 1960-এর দশকের মাঝামাঝি এর লয় কমে হয় রকস্টেডি, যাতে গানের কথা আরও রোমান্টিক আর হর্নের আওয়াজ আরও মৃদু। রেগে ধীর লয়টি রেখে দেয়, সঙ্গে ভারী বেস, ডাউনবিটে জোর দেওয়া ড্রাম আর অফবিটে গিটার বা পিয়ানোর ছোট, কাটা কাটা কর্ড। প্রথম খাঁটি রেগে রেকর্ডগুলো বের হয় 1968 সালের গোড়ায়।
রাস্তা থেকে আসা এক নাম
1968 সালে প্রকাশিত টুটস অ্যান্ড দ্য মেটালসের ‘Do the Reggay’ ছিল শব্দটি ব্যবহার করা প্রথম জনপ্রিয় গান, আর এটিই নতুন সুরকে তার নাম দেয়। ‘Reggay’ তখন ছিল এক ক্ষণস্থায়ী নাচের ফ্যাশনের নাম। টুটস হিবার্ট বলেছিলেন, তিনি এটি নিয়েছিলেন ‘streggae’ থেকে, অগোছালো চেহারার মানুষ বোঝানোর এক অপভাষা, আর অভিধানগুলো জ্যামাইকান rege-rege-র সঙ্গে এর যোগের ইঙ্গিত দেয়, যার মানে ‘ছেঁড়াখোঁড়া কাপড়’ বা ‘ঝগড়া’। 1967 সালের Dictionary of Jamaican English-এ reggae আগেই তালিকাভুক্ত ছিল rege-র নতুন বানান হিসেবে।
পশ্চিম কিংস্টন থেকে সারা বিশ্বে
ইউনেস্কোর বর্ণনায় রেগের জন্ম এমন এক সাংস্কৃতিক পরিসরে, যেখানে বাস করত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীগুলো, মূলত পশ্চিম কিংস্টনে, আর গোড়ার দিনগুলোতে এটি ছিল প্রান্তিক মানুষের কণ্ঠস্বর। ব্রিটেনের জ্যামাইকান সম্প্রদায় দেশের বাইরে এর প্রসারে সাহায্য করে: 1968 থেকে 1972 সালের মধ্যে যুক্তরাজ্যে রেগের বিক্রি ছিল জ্যামাইকার চেয়েও বেশি। বলা হয়, 1972 সালের ছবি The Harder They Come-এর সাউন্ডট্র্যাক ‘রেগেকে বিশ্বের কাছে পৌঁছে দেয়’। 2018 সালে ইউনেস্কো জ্যামাইকার রেগে সংগীতকে অধরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে।
সূত্র: en.wikipedia.org › Reggae ↗ · ich.unesco.org ↗ · etymonline.com ↗ · en.wikipedia.org › Do the Reggay ↗