ক্যানোলা (তৈলবীজের গাছ) কোথা থেকে এসেছে?
ক্যানোলা এসেছে কানাডার প্রেইরি থেকে। উইনিপেগ আর সাসকাটুনের উদ্ভিদ-প্রজননবিদেরা বছরের পর বছর কাজ করে 1970-এর দশকে পুরোনো তৈলবীজ ফসল রেপসিডকে ক্যানোলায় রূপ দেন, আর নামটিই এসেছে ‘Canadian oil’ (কানাডীয় তেল) থেকে।
যুদ্ধে রেপসিড
কানাডায় রেপসিড প্রথম মাঠের ফসল হিসেবে চাষ হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়। জল আর বাষ্পে ধোয়া ধাতুর গায়ে এর তেল অন্য পিচ্ছিলকারকের চেয়ে ভালো লেগে থাকে, আর মিত্রশক্তির তা জরুরি দরকার ছিল নৌবাহিনী ও বাণিজ্যিক জাহাজের ইঞ্জিনের জন্য। 1943 সালে মার্কিন কোম্পানির কাছ থেকে কেনা বীজ বোনা হয় 1,300 হেক্টর জমিতে। সাসকাটুনের ফেডারেল গবেষণাকেন্দ্রে আর 1953 সাল থেকে উইনিপেগের ইউনিভার্সিটি অব ম্যানিটোবায় প্রজননবিদেরা ফসলটির উন্নতি চালিয়ে যান, আর কানাডা 1954 সালে রেপসিডের প্রথম জাত Golden-কে লাইসেন্স দেয়।
নতুন এক তেলের প্রজনন
পুরোনো রেপসিড তেলে ইরুসিক অ্যাসিড ছিল প্রচুর, আর 1956 সাল থেকে এর খাদ্যমূল্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ইউনিভার্সিটি অব ম্যানিটোবার বালদুর স্টেফানসন আর সাসকাটুনের কিথ ডাউনি কম ইরুসিক অ্যাসিডের রেপসিড গাছ খুঁজে পান, আর 1968 সালে আসে Oro, Brassica napus-এর প্রথম কম-ইরুসিক জাত। প্রজননবিদেরা গ্লুকোসিনোলেটও কমান, ঝাঁঝালো স্বাদের যৌগ, যার জন্য বীজের খৈল পশুখাদ্য হিসেবে নিম্নমানের ছিল। 1974 সালে স্টেফানসন ছাড়েন Tower, প্রথম ‘ডাবল লো’ জাত। নতুন ফসলের দরকার ছিল নতুন নাম: ক্যানোলা, যা 1978 সালে ট্রেডমার্ক হিসেবে নিবন্ধিত হয়।
কেন ইউরোপের কথা মনে আসে
রেপসিড নিজে পুরোনো। এশিয়ায় এটি প্রায় 4,000 বছর ধরে তৈলবীজ ফসল, আর ইউরোপে অন্তত মধ্যযুগ থেকে এর তেল প্রদীপে জ্বালানো আর রান্নায় ব্যবহার হয়ে আসছে। গ্যাস আর কেরোসিনের আগে এর তেল আলো দিত ইউরোপের ঘরে ঘরে, এমনকি রেলগাড়ির কামরাতেও। আজ অয়েলসিড রেপ, সেখানে যে নামে একে প্রায়ই ডাকা হয়, গোটা ইউরোপে গম আর যবের সঙ্গে পালা করে চাষ হয়, আর জার্মানি রেপসিড তেলের সবচেয়ে বড় উৎপাদকদের একটি। কিন্তু ইরুসিক অ্যাসিড আর গ্লুকোসিনোলেটের কড়া সীমা মেনে চলা ক্যানোলা তৈরি হয়েছে কানাডায়।
সূত্র: canolacouncil.org ↗ · en.wikipedia.org › Rapeseed oil ↗ · en.wikipedia.org › Rapeseed ↗ · thecanadianencyclopedia.ca ↗