ক্রিসমাস ক্যাকটাস (Schlumbergera) কোথা থেকে এসেছে?
ক্রিসমাস ক্যাকটাস এসেছে দক্ষিণ-পূর্ব ব্রাজিলের উপকূলীয় পাহাড় থেকে। এর বুনো পূর্বপুরুষেরা মরুভূমির গাছ নয়: এরা জন্মায় শীতল, কুয়াশাঢাকা বনে শ্যাওলাধরা ডাল আর পাথরের গায়ে, আর সেখানে ফুল ফোটায় মে মাসে, দক্ষিণ গোলার্ধের শরৎকালে।
কুয়াশাঢাকা বনের ক্যাকটাস
Schlumbergera ছয় থেকে নয়টি প্রজাতির ছোট এক গণ, যা পাওয়া যায় কেবল ব্রাজিলের সাও পাওলো, রিও দে জানেইরো, মিনাস জেরাইস আর এস্পিরিতো সান্তো রাজ্যের উপকূলীয় পাহাড়ে, 700 থেকে 2,780 মিটার উচ্চতায়। আটলান্টিকের উষ্ণ, আর্দ্র বাতাস পাহাড় বেয়ে উঠে ঘনীভূত হয়, তাই বনগুলো শীতল, ছায়াঘেরা আর স্যাঁতসেঁতে। গাছগুলো জন্মায় শ্যাওলায় ঢাকা ডালে বা পাথরের ফাটলে, আর এদের নলাকার, মধুভরা ফুল হামিংবার্ডের জন্যই তৈরি।
ব্রাজিল থেকে ইউরোপের জানালার তাকে
1818 সালের মধ্যেই ইউরোপে Schlumbergera truncata-র চাষ হচ্ছিল, আর 1837 সালে ব্রাজিলে আবিষ্কৃত S. russelliana আসে 1839 সালে। ইংল্যান্ডে ডব্লিউ. বাকলি এ দুটির সংকর করেন, আর সংকর গাছটির প্রথম উল্লেখ মেলে 1852 সালে। 1860-এর দশকের মধ্যে বহু জাত বিক্রি হচ্ছিল, শরৎ আর শীতের ফুলের জন্য গরম গ্রিনহাউস আর ঘরবাড়িতে যা জনপ্রিয় ছিল। 1858 সালে শার্ল লেমের দেওয়া গণনামটি সম্মান জানায় ফ্রেদেরিক শ্লুমবার্জেকে, যিনি রুয়াঁর কাছে তাঁর শাতোতে ক্যাকটাসের সংগ্রহ রাখতেন।
কেন বলা হয় মেক্সিকো
ক্যাকটাস মনে করিয়ে দেয় মরুভূমির কথা, আর মরুভূমি মনে করিয়ে দেয় মেক্সিকোর কথা। কিন্তু Schlumbergera এমন এক দল ক্যাকটাসের সদস্য, যারা গাছ বা পাথরের গায়ে জন্মায় আর চেহারায় ও জীবনযাত্রায় তাদের মরুভূমির জ্ঞাতিদের থেকে একেবারে আলাদা: এদের পাতা নেই, আছে চ্যাপ্টা সবুজ কাণ্ডের খণ্ড, আর বেশি রোদ এদের ক্ষতি করে। এদের নাম চলে ক্যালেন্ডার মেনে। লম্বা রাত কুঁড়ি জাগায়, তাই উত্তর গোলার্ধে এরা ফোটে থ্যাংকসগিভিং আর ক্রিসমাসের আশপাশে, আর ব্রাজিলে এদের নাম flor de maio, ‘মে মাসের ফুল’।
সূত্র: en.wikipedia.org ↗ · sciencemuseerne.dk ↗ · extension.arizona.edu ↗