গাপ্পি কোথা থেকে এসেছে?
গাপ্পি এসেছে উত্তর-পূর্ব দক্ষিণ আমেরিকা আর ত্রিনিদাদের মতো কাছের দ্বীপগুলোর ছোট নদী-নালা থেকে। অ্যাকোয়ারিয়ামের জন্য আর মশার লার্ভা খাওয়ানোর জন্য একে সারা বিশ্বে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, আর আজ এটি সবচেয়ে বিস্তৃত ক্রান্তীয় মাছগুলোর একটি।
ত্রিনিদাদের নর্দমার মাছ
নিজের আদি এলাকায় গাপ্পি পৌঁছাতে পারে এমন প্রায় প্রতিটি মিঠা জলাশয়ে বসতি গেড়েছে, বিশেষ করে দক্ষিণ আমেরিকার মূল ভূখণ্ডের উপকূলের কাছের ছোট নদীগুলোতে। ত্রিনিদাদে, যেখানে মানুষ এদের ডাকে ‘millions’ বা ‘seven-colours’ নামে, এরা থাকে প্রায় প্রতিটি নদী-নালা, পুকুর আর নর্দমায়। প্রায় 3 সেন্টিমিটার লম্বা এই মাছ ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর সবচেয়ে ছোট মিঠাপানির মাছ। পুরুষদের গায়ে থাকে কমলা, কালো আর ঝলমলে নীল, সবুজ ও হলুদের ফোঁটা আর ডোরা, আর স্ত্রী মাছ ডিম না পেড়ে জীবন্ত বাচ্চার জন্ম দেয়।
মিস্টার গাপির নাম যেভাবে টিকে গেল
ভিলহেল্ম পিটার্স 1859 সালে প্রজাতিটির প্রথম বর্ণনা দেন Poecilia reticulata নামে। 1866 সালে ত্রিনিদাদবাসী, ব্রিটেনে জন্মানো প্রকৃতিবিদ রবার্ট জন লেকমিয়ার গাপি সেন্ট অ্যানস নদীতে মাছটি ধরে নমুনা পাঠান ব্রিটিশ মিউজিয়ামে, যেখানে অ্যালবার্ট গুন্থার তাঁর সম্মানে এর নাম দেন Girardinus guppii। বৈজ্ঞানিক নামটি অচিরেই বাদ পড়ে আগের নামের পক্ষে, কিন্তু সাধারণ নামটি টিকে যায়। 20 শতকের গোড়ায় গাপির ছেলে অ্যাকোয়ারিয়াম ব্যবসার জন্য মাছটি রপ্তানি শুরু করেন, আর সম্ভবত তাতেই নামটি বিশ্বজুড়ে ছড়ায়।
মানুষ কেন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কথা ভাবে
অ্যান্টার্কটিকা বাদে প্রতিটি মহাদেশের 70টিরও বেশি দেশে গাপ্পি আজ স্থায়ীভাবে বাস করে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বেশির ভাগ দেশে একে আনা হয়েছে, যেখানে এরা থাকে নদী-নালা, খোলা নর্দমা আর শহরের খালে, তাই এদের স্থানীয় মাছ ভেবে নেওয়া সহজ। বেশির ভাগকেই ইচ্ছে করে ছাড়া হয়েছিল, কিছুকে খোলা জলের ট্যাঙ্কে, যাতে এরা মশার লার্ভা খেয়ে ম্যালেরিয়ার বিস্তার কমায়, আর কিছু পালিয়েছে অ্যাকোয়ারিয়াম থেকে। অনেক জায়গায় এরা স্থানীয় মাছের ক্ষতি করেছে, কিন্তু বুনো গাপ্পির আসল ঠিকানা দক্ষিণ আমেরিকা আর ত্রিনিদাদের নদী-নালা।
সূত্র: en.wikipedia.org › Guppy ↗ · en.wikipedia.org › Robert John Lechmere Guppy ↗ · sta.uwi.edu ↗ · ecologyasia.com ↗