তেল পাম কোথা থেকে এসেছে?
তেল পাম এসেছে পশ্চিম আফ্রিকা থেকে, গিনি উপসাগরের উপকূল থেকে। গাম্বিয়া থেকে অ্যাঙ্গোলা পর্যন্ত স্থানীয় এই গাছ বহু শতাব্দী ধরে পশ্চিম আফ্রিকার রান্নাঘরের জোগান দিয়েছে, তারপর একে লাগানো হয় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়, যেখানে আজ বিশ্বের বেশির ভাগ পাম তেল উৎপাদিত হয়।
আফ্রিকার বনের এক পাম
Elaeis guineensis বুনো জন্মায় পশ্চিম ও পশ্চিম-মধ্য আফ্রিকার রেইনফরেস্ট বলয়ে। এর সবচেয়ে বেশি জিনগত বৈচিত্র্য দেখা যায় দক্ষিণ-পূর্ব নাইজেরিয়া আর পশ্চিম ক্যামেরুনে, আর জীবাশ্ম-প্রমাণ ইঙ্গিত দেয় নাইজার বদ্বীপই এর উৎপত্তির সম্ভাব্য কেন্দ্র। এর নাম বোঝায় গিনিকে, ওই উপকূলের পুরোনো নাম। বনাঞ্চলে বুনো আর আধা-বুনো কুঞ্জ এত বেশি যে এগুলোকে গোড়ার দিকের চাষের ফল ধরা হয়; কেবল নাইজেরিয়াতেই এগুলো ছড়িয়ে আছে প্রায় 2.5 মিলিয়ন হেক্টর জুড়ে।
লাল তেল, পাম ওয়াইন আর সাবান
পশ্চিম আফ্রিকায় তেল পাম বহু শতাব্দী ধরে গ্রামীণ জীবনের অংশ। অপরিশোধিত লাল পাম তেল আজও সেখানকার প্রিয় রান্নার তেল, আর গাছ থেকে রস নামিয়ে তৈরি হয় পাম ওয়াইন। ব্রিটেনের শিল্পবিপ্লবের সময় যন্ত্রের পিচ্ছিলকারক আর সাবানের ভিত্তি হিসেবে পাম তেলের ব্যাপক চাহিদা ছিল। 19 শতকের সেই বাণিজ্য পুরোপুরি নির্ভর করত বুনো আর আধা-বুনো কুঞ্জের ওপর, আর প্রায় 1870 সালের মধ্যে পশ্চিম আফ্রিকার কিছু দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য ছিল পাম তেল।
কেন বলা হয় মালয়েশিয়া বা ইন্দোনেশিয়া
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাগানগুলোর শুরু মাত্র চারটি চারা থেকে, যা 1848 সালে লাগানো হয়েছিল জাভার বোগোরের বোটানিক গার্ডেনে। এদের বংশধরদের থেকে 1911 সাল থেকে সুমাত্রায় আর 1917 সাল থেকে মালয়ে গড়ে ওঠে বাগিচা-শিল্প। কয়েক দশক ধরে সেখানে তরুণ গাছে প্রায়ই হাতে পরাগায়ন করতে হতো, যতদিন না 1981 সালে এর পরাগায়নকারী এক আফ্রিকান উইভিল পোকা মালয়েশিয়ায় আনা হয়। 2007 সাল থেকে ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের সবচেয়ে বড় উৎপাদক; 2023–24 সালে সব পাম তেলের 57% এসেছে সেখান থেকে।
সূত্র: en.wikipedia.org › Elaeis guineensis ↗ · en.wikipedia.org › Palm oil ↗ · uses.plantnet-project.org ↗