আতোলে (গরম ভুট্টার পানীয়) কোথা থেকে এসেছে?
আতোলে এসেছে মেসোআমেরিকা থেকে, মেক্সিকো আর মধ্য আমেরিকায় প্রাচীন মায়া ও অ্যাজটেকদের দেশ থেকে। জলে বা দুধে রান্না করা ভুট্টার মণ্ডের এই ঘন, গরম পানীয় স্প্যানিশ শাসনের চেয়ে ঢের পুরোনো, আর আজও রাস্তার দোকানে হাতা দিয়ে ধোঁয়া-ওঠা আতোলে ঢেলে দেওয়া হয়।
মায়া পেয়ালার গায়ে লেখা
সবচেয়ে পুরোনো লিখিত প্রমাণ আসে ক্লাসিক মায়াদের কাছ থেকে। তাঁদের অনেক রং-করা পাত্রের গায়ে এমন এক লিপি আছে, যাকে পণ্ডিতেরা বলেন ‘উৎসর্গ সূত্র’ বা ‘প্রাইমারি স্ট্যান্ডার্ড সিকোয়েন্স’; এতে সাধারণত থাকে পাত্রের ধরন, ভেতরে কী আছে আর মালিকের নাম। 1980-এর দশকে এই লেখার পাঠোদ্ধার হলে দেখা যায়, এতে যে দুটি প্রধান পানীয়ের নাম আছে তা কাকাও আর আতোলে, অর্থাৎ ভুট্টার জাউ, আর শিগগিরই স্বাদ আনার উপকরণের তালিকা লম্বা হতে থাকে। পেয়ালাগুলোই লিখে রেখেছে তাদের ভেতরে কী ঢালা হতো।
অ্যাজটেক মেক্সিকোর আতোল্লি
শব্দটি খুব সম্ভবত এসেছে অ্যাজটেকদের ভাষা নাহুয়াতল থেকে, যেখানে atolli ছিল মিহি করে পেষা ভুট্টা জলে মিশিয়ে বানানো পানীয়; স্প্যানিশ একে নিয়ে নেয় atole রূপে। মধ্য মেক্সিকোর 16 শতকের লেখায় কয়েক রকমের আতোল্লির বর্ণনা আছে, তার মধ্যে ঘন সাদা আতোল্লি, চুনে নরম করা ভুট্টার মণ্ড দিয়ে বানানো আতোল্লি আর ফলের আতোল্লি। আতোলে বিক্রি ছিল একটা পেশাও: 16 শতকের মাঝামাঝি কোয়োয়াকানে ভুট্টার জাউ বিক্রেতারা দুই তোমিন কর দিতেন, আর মেক্সিকো সিটির 1613 সালের এক বৃত্তান্তে তেতো আতোলে বিক্রি করা এক বিধবার উল্লেখ আছে।
কেন পেরুর কথা বলা হয়
আমেরিকা মহাদেশের নানা অঞ্চলে ভুট্টার পানীয় বানানো হয়, তাই আতোলেকে ভুল দেশে বসিয়ে ফেলা সহজ। আতোলে আসলে মেক্সিকো আর মধ্য আমেরিকার। মেক্সিকোয় এটি বানানো হয় মাসা দিয়ে, অর্থাৎ নিক্সটামালাইজ করা ভুট্টার মণ্ড, আর স্বাদ আনা হয় দারুচিনি, ভ্যানিলা, পিলোনসিয়ো চিনি বা ফল দিয়ে; চকলেট আতোলের নাম চাম্পুরাদো, আর আতোলের সঙ্গে সাধারণত থাকে তামালে। গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস, এল সালভাদর আর নিকারাগুয়ায় atol de elote একটি প্রচলিত পানীয়।
সূত্র: en.wikipedia.org ↗ · link.springer.com ↗ · nahuatl.wired-humanities.org ↗ · mexiconewsdaily.com ↗