ডিমের কফি (cà phê trứng) কোথা থেকে এসেছে?
ডিমের কফি এসেছে ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয় থেকে। কড়া কফির মাথায় থাকে চিনি আর কনডেন্সড মিল্কের সঙ্গে ফেটানো ডিমের কুসুমের ঘন, মিষ্টি ফেনা; উদ্ভাবকের পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী এই রেসিপির শুরু 1940-এর দশকে, যখন দুধের টান ছিল।
দুধ ছাড়া এক বারটেন্ডার
গল্পটি এসেছে নগুয়েন ভান জিয়াংয়ের পরিবারের কাছ থেকে। তাঁদের ভাষ্যে, 1946 সালে তিনি হ্যানয়ের মেট্রোপোল হোটেলে বারটেন্ডার ছিলেন, আর প্রথম ইন্দোচীন যুদ্ধের সময় দুধ পাওয়া কঠিন ছিল। দুধের বদলে তিনি ডিমের কুসুম কনডেন্সড মিল্কের সঙ্গে ফেটিয়ে ফেনা বানিয়ে কফির ওপর দেন। হোটেলের অতিথিদের এটি এতই ভালো লাগে যে তিনি চাকরি ছেড়ে নিজেই এটি বিক্রি শুরু করেন, নিজের ক্যাফে জিয়াংয়ে (Café Giảng)। অন্য কিছু বিবরণ উদ্ভাবনের সময়কে মোটামুটিভাবে 1940-এর দশকের শেষ দিক বলে।
ফেটানো, গরম করা, চামচে খাওয়া
ডিমের কফির শুরু phin-এ ছাঁকা কড়া রোবাস্টা কফি দিয়ে। ডিমের কুসুম চিনি আর কনডেন্সড মিল্কের সঙ্গে ফেটিয়ে গরম জলের ভাপে (ওয়াটার বাথে) আলতো করে গরম করা হয়, কারণ ফোটালে কুসুম দলা পাকিয়ে যাবে। ফেনা কফির ওপর এত ঘন হয়ে বসে থাকে যে কাপের সঙ্গে একটি চা-চামচ দেওয়া হয়, যাতে নিচের কফি খাওয়ার আগে ওপরের স্তরটা চামচে খাওয়া যায়। গরম কফিটি আসে গরম জলের বাটিতে বসানো অবস্থায়, যাতে গরম থাকে। ক্যাফে জিয়াংয়ের কফিতে সামান্য মাখন আর চিজও থাকে, আর বাকি রেসিপি গোপন।
পারিবারিক রেসিপি
জিয়াং তাঁর রেসিপি দিয়ে যান সন্তানদের। ওল্ড কোয়ার্টারে 39 নগুয়েন হু হুয়ান স্ট্রিটের এক সরু গলির ভেতরে থাকা ক্যাফে জিয়াং চালান তাঁর ছোট ছেলে নগুয়েন ত্রি হোয়া, যিনি রাম, চকলেট, দারুচিনি আর গ্রিন টি দেওয়া নতুন ধরন যোগ করেছেন। কয়েকটা ব্লক দূরে জিয়াংয়ের মেয়ে বিচ হোয়ান কিয়েম হ্রদের দিকে মুখ করা এক পুরোনো বাড়িতে খোলেন ক্যাফে দিন (Café Đinh)। পরে বৈদ্যুতিক মিক্সার এসে ফেনা ফেটানো সহজ করে দিয়েছে, আর ক্যাফেগুলো ডিমের কফি দেয় গরম বা বরফ দিয়ে।
সূত্র: en.wikipedia.org ↗ · theguardian.com ↗ · vietnamnet.vn ↗ · atlasobscura.com ↗