ডিক্যাফ কফি কোথা থেকে এসেছে?
ডিক্যাফ কফি এসেছে জার্মানির ব্রেমেন থেকে। 20 শতকের গোড়ায় ব্রেমেনের কফি ব্যবসায়ী লুডভিগ রোজেলিয়াস কফি বীজ থেকে ক্যাফেইন সরানোর প্রথম বাণিজ্যিকভাবে সফল পদ্ধতি তৈরি করেন, আর তাঁর ক্যাফেইনমুক্ত কফি শিগগিরই বিক্রি হতে থাকে গোটা ইউরোপে ও আমেরিকায়।
কফি ব্যবসায়ীর ছেলে
ক্যাফেইন আবিষ্কার হয়েছিল ডিক্যাফের অনেক আগে। 1820 সালে জার্মান রসায়নবিদ ফ্রিডলিব ফার্দিনান্দ রুঙ্গে কবি গ্যোটের অনুরোধে কফি বীজ থেকে একে আলাদা করেন, কিন্তু তিনি কখনো ক্যাফেইনমুক্ত কফি বানানোর চেষ্টা করেননি। লুডভিগ রোজেলিয়াস 1874 সালে ব্রেমেনে এক কফি আমদানিকারকের ঘরে জন্মান। হ্যানোভারে এক মুদি ও কফি-ভাজিয়ের কাছে শিক্ষানবিশির পর তিনি বাবার প্রতিষ্ঠান Roselius & Co.-তে যোগ দেন আর এর রোস্টিং উন্নত করেন। 1902 সালে বাবার মৃত্যুর পর তিনি ভাইয়ের সঙ্গে ব্যবসার হাল ধরেন।
সমুদ্রের জলে ভেজা বীজ
প্রচলিত কাহিনি অনুযায়ী, 1903 সালে কফি বীজের একটি চালান সমুদ্রের জলে ভিজে যায়, আর তাতে বীজগুলোর বেশির ভাগ ক্যাফেইন চলে যায়, কিন্তু স্বাদ সামান্যই কমে। রোজেলিয়াস আর তাঁর সহকর্মীরা, যাঁদের মধ্যে ছিলেন রসায়নবিদ কার্ল ভিমার, একে একটি শিল্প-পদ্ধতিতে পরিণত করেন: তাঁরা সবুজ বীজ অ্যাসিড বা ক্ষারের সঙ্গে ভাপিয়ে নিয়ে বেনজিন দ্রাবক দিয়ে ক্যাফেইন ধুয়ে বের করতেন। 1906 সালে এর পেটেন্ট হয়, যে বছর রোজেলিয়াস কফিটি বিক্রির জন্য ব্রেমেনে একটি কোম্পানিও প্রতিষ্ঠা করেন। 1911 সাল থেকে এটি রপ্তানি হতে থাকে ইউরোপের ভেতরে, রাশিয়ায় আর যুক্তরাষ্ট্রে।
কেন সুইজারল্যান্ডের কথা মনে আসে
ক্যাফেইন সরানোর একটি বিখ্যাত পদ্ধতির গায়ে সুইজারল্যান্ডের নাম। Swiss Water পদ্ধতিতে কোনো রাসায়নিক দ্রাবক লাগে না: বীজ জলে ভেজানো হয়, আর সেই জল থেকে ক্যাফেইন ছেঁকে ফেলা হয়। এটি প্রথম তৈরি হয় সুইজারল্যান্ডে 1930-এর দশকে, কিন্তু বাজারে আসে কেবল 1980 সালের দিকে, রোজেলিয়াসের সত্তর বছরেরও বেশি পরে। বেশির ভাগ ডিক্যাফ আজও তাঁর কফির মতোই সবুজ, না-ভাজা বীজ থেকে তৈরি হয়, যদিও বেনজিনের জায়গা বহু আগেই নিয়েছে অন্য দ্রাবক। 2006 সালে ডিক্যাফের 100তম জন্মদিন প্রায় নীরবেই পেরিয়ে যায়।
সূত্র: en.wikipedia.org › Decaffeination ↗ · en.wikipedia.org › Ludwig Roselius ↗ · deutsche-biographie.de ↗ · bbc.com ↗ · de.wikipedia.org ↗