তারখুনা (সবুজ তারাগন সোডা) কোথা থেকে এসেছে?
সবুজ তারাগন সোডা তারখুনা এসেছে জর্জিয়ার কুতাইসি থেকে। 1887 সালে সেখানকার এক ওষুধের দোকানে কাজ করা মিত্রোফান লাগিদজে সোডা ওয়াটারে মেশান নিজের বানানো প্রাকৃতিক তারাগন সিরাপ, আর প্রায় এক শতক পরে পানীয়টি গোটা সোভিয়েত ইউনিয়নে গ্রীষ্মের প্রিয় পানীয় হয়ে ওঠে।
কুতাইসিতে প্রাকৃতিক সিরাপ
1887 সালে কুতাইসিতে এক ফার্মাসিস্টের শিক্ষানবিশ মিত্রোফান লাগিদজের মাথায় একটি ভাবনা আসে: সেকালের আমদানি করা স্বাদযুক্ত এসেন্সের বদলে প্রাকৃতিক সিরাপ দিয়ে লেমনেড বানানো। তিনি নিজেই সিরাপ বানান আর ঝাঁঝালো পানিতে মেশান ককেশীয় তারাগনের নির্যাস। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগে তাঁর পানীয় একাধিকবার আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে সোনার পদক জেতে। OC Media জানায়, তাঁর নাতি তোরনিকে লাগিদজে আজও তিবিলিসির এক কারখানায় সেই একই কৌশল ব্যবহার করেন।
কুতাইসি থেকে সোভিয়েত ইউনিয়নে
1900 সালে কুতাইসির ‘লাগিদজে ব্রাদার্স’ কারখানা ভেষজ আর ফল থেকে নিজস্ব স্বাদ মেশাতে শুরু করে। 1927 সালে সোভিয়েত কর্তৃপক্ষ তিবিলিসিতে ‘লাগিদজে ওয়াটার’-এর কারখানা গড়ে লাগিদজেকে তার পরিচালক করে, আর তাঁর কৌশলই গোটা সোভিয়েত ইউনিয়নে লেমনেডের ভিত্তি হয়ে ওঠে। তারাগন সোডা সাধারণ সোভিয়েত বাজারে পৌঁছায় 1981 সালে, আর 1983 সাল থেকে বহু সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রে 0.33 ও 0.5 লিটারের বোতলে বিক্রি হতে থাকে।
কেন রাশিয়ার কথা মনে আসে
গোটা সোভিয়েত ইউনিয়নে পানীয়টি বিক্রি হতো রুশ নাম ‘তারখুন’-এ। Atlas Obscura লিখেছে, 1980-এর দশকে, যখন এটি ব্যাপক হারে উৎপাদন করে সারা দেশে বিক্রি করা হতো, তখন এটি সোভিয়েত গ্রীষ্মের প্রিয় পানীয় হয়ে ওঠে। আজ এটি জর্জিয়া ও লিথুয়ানিয়ার পাশাপাশি রাশিয়াতেও তৈরি হয়, আর জর্জিয়া, আর্মেনিয়া ও রাশিয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় পানীয়গুলোর একটি। কিন্তু এর শুরু কুতাইসিতে এক ফার্মাসিস্টের তরুণ শিক্ষানবিশের হাতে, এমন এক দেশে, যেখানকার রাঁধুনিরা সালাদ, মাছ, মাংস আর মাশরুমের পদেও তারাগন দেন।
সূত্র: en.wikipedia.org › Tarkhuna ↗ · en.wikipedia.org › Lagidze water ↗ · oc-media.org ↗ · atlasobscura.com ↗