ডগলাস ফার কোথা থেকে এসেছে?
ডগলাস ফার এসেছে পশ্চিম উত্তর আমেরিকা থেকে, ব্রিটিশ কলাম্বিয়া থেকে দক্ষিণে ক্যালিফোর্নিয়া পর্যন্ত আর রকি পর্বতমালা বরাবর। এটি পাইন পরিবারের সবচেয়ে উঁচু গাছ আর বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাঠের গাছগুলোর একটি।
পশ্চিমের বনের দৈত্য
উপকূলীয় ডগলাস ফার মধ্য ব্রিটিশ কলাম্বিয়া থেকে দক্ষিণে প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূল ধরে প্রায় 2,200 কিমি জুড়ে জন্মায়, আর এর একটি অভ্যন্তরীণ জাত ছড়িয়ে আছে রকি পর্বতমালা বরাবর। জীবাশ্ম দেখায়, প্রজাতিটি পশ্চিম উত্তর আমেরিকা ছাড়া আর কোথাও কখনো বুনো অবস্থায় জন্মায়নি। উপকূলের গাছ 100 মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে, আর পুরোনো নথিতে 120 মিটারের বেশি উঁচু গাছের কথা আছে। সবচেয়ে বড়গুলো সাধারণত 500 বছরের বেশি বাঁচে। পুরোনো গাছে 36 সেমি পর্যন্ত পুরু বাকল এদের প্রশান্ত উত্তর-পশ্চিমের সবচেয়ে আগুন-সহিষ্ণু গাছগুলোর মধ্যে জায়গা দেয়।
আসল ফার নয়
নাম যা-ই বলুক, ডগলাস ফার Abies গণের আসল ফার নয়, স্প্রুস, পাইন বা হেমলকও নয়। এর গণের নাম Pseudotsuga, অর্থাৎ ‘নকল হেমলক’। আসল ফারের বিপরীতে এর কোন নিচের দিকে ঝোলে আর আঁশগুলো ধরে রাখে, আর সেগুলো থেকে বেরিয়ে থাকে তিন-কাঁটার মঞ্জরীপত্র, যা নাকি দেখতে ইঁদুরের পেছনের অর্ধেকের মতো। স্কটিশ প্রকৃতিবিদ আর্চিবাল্ড মেনজিস 1790-এর দশকের গোড়ায় ভ্যাঙ্কুভার দ্বীপে প্রথম গাছটির নথি রাখেন, আর এর প্রজাতির নাম menziesii তাঁর সম্মানে।
কেন স্কটল্যান্ডের কথা মনে আসে
সাধারণ নামটি আরেক স্কটের সম্মানে, ডেভিড ডগলাস, যাঁর জন্ম 1799 সালে স্কোনে, আর যিনি মালির প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। 1824 সালে রয়্যাল হর্টিকালচারাল সোসাইটি তাঁকে পাঠায় প্রশান্ত উত্তর-পশ্চিমে, যেখানে 1825 সাল থেকে তিনি কলাম্বিয়া নদীর নিম্নপ্রবাহ বরাবর গাছটি সংগ্রহ করেন। তাঁর দেশে পাঠানো বীজ শিগগিরই একে ব্রিটেনে বাগানের প্রিয় গাছ আর গুরুত্বপূর্ণ বনজ গাছ করে তোলে। ডগলাস ব্রিটেনে প্রায় 240 প্রজাতির উদ্ভিদ নিয়ে আসেন। উদ্ভিদবিদ উইলিয়াম হুকারকে তিনি লিখেছিলেন: ‘আপনি ভাবতে শুরু করবেন, আমি খেয়ালখুশিমতো পাইন গাছ বানাই।’
সূত্র: en.wikipedia.org › Pseudotsuga menziesii ↗ · conifers.org ↗ · en.wikipedia.org › David Douglas (botanist) ↗ · historylink.org ↗