কৃষ্ণচূড়া (ফ্ল্যামবয়েন্ট গাছ) কোথা থেকে এসেছে?
কৃষ্ণচূড়া এসেছে মাদাগাস্কার থেকে, যেখানে এটি বুনো জন্মায় কেবল দ্বীপের পশ্চিম ও উত্তরের শুকনো বনে। বিজ্ঞান 1930-এর দশকে জানতে পারে এটি বুনো অবস্থায় কোথায় জন্মায়, কিন্তু তার বহু আগে থেকেই এটি গোটা ক্রান্তীয় অঞ্চলে রাস্তার ধারে সারি বেঁধে দাঁড়িয়ে ছিল।
1932 সালে মেটা এক রহস্য
উদ্ভিদবিদেরা 1829 সালে গাছটির নাম দেন Poinciana regia, আর 19 শতক থেকে এটি গোটা ক্রান্তীয় অঞ্চলে লাগানো হতে থাকে। তবু কেউ জানত না এটি প্রাকৃতিকভাবে কোথায় জন্মায়। কেবল 1932 সালে উদ্ভিদবিদ জে. লেআঁদ্রি মাদাগাস্কারের পশ্চিম উপকূলে এর একটি প্রাকৃতিক উপনিবেশ খুঁজে পান। কিউ গার্ডেনস এখন একে দ্বীপের পশ্চিমের শুকনো বনে সীমাবদ্ধ বলে বর্ণনা করে: বেমারাহা পর্বতপুঞ্জের উত্তর ও পশ্চিমে, আর আন্তসিরানানার আশপাশের শুকনো বনে দক্ষিণে দারাইনা পর্যন্ত।
ক্রান্তীয় অঞ্চলের ছায়াতরু
গাছটি দ্রুত বাড়ে আর ছাতার মতো চাঁদোয়া মেলে, যা একে রাস্তা আর পার্কের প্রিয় ছায়াতরু করে তুলেছে। এর টকটকে লাল ফুল প্রায় 10 সেন্টিমিটার চওড়া, ওপরের পাপড়িতে সাদা বা মাখনরঙা হলুদ ছোপ, আর কাঠের মতো শক্ত শুঁটি আধা মিটারেরও বেশি লম্বা হতে পারে। পথে পথে এটি কুড়িয়েছে অনেক নাম, তার মধ্যে ফ্ল্যামবয়েন্ট, ফ্লেম ট্রি, রয়্যাল পয়েনসিয়ানা আর গুলমোহর। কোথাও কোথাও এটি বুনো হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে, আর অস্ট্রেলিয়ার কিছু অংশে একে আগ্রাসী বলে গণ্য করা হয়।
মানুষ কেন ক্যারিবীয় অঞ্চলের কথা ভাবে
ক্যারিবীয় অঞ্চলে flamboyán চিরচেনা দৃশ্য। এটি সেন্ট কিটস ও নেভিসের জাতীয় ফুল, প্যুয়ের্তো রিকোর বহু চিত্রকর্মে এর দেখা মেলে, আর প্যুয়ের্তো রিকোর শহর পেনিউয়েলাসের ডাকনাম El Valle de los Flamboyanes, অর্থাৎ ‘ফ্ল্যামবয়েন্টের উপত্যকা’। এমনকি poinciana নামটিও এসেছে এমন এক গণ থেকে, যার নাম রাখা হয়েছিল সেন্ট কিটসের শাসক ফরাসি অভিজাত ফিলিপ দ্য লংভিলিয়ে দ্য পোয়াঁসির নামে। তবু এর একমাত্র আদি নিবাস মাদাগাস্কার, যেখানে কেটে-পুড়িয়ে চাষ, কাঠকয়লা তৈরি, পশুচারণ আর আগুনে এর বন মারাত্মকভাবে খণ্ডিত হয়ে পড়েছে।
সূত্র: en.wikipedia.org ↗ · powo.science.kew.org ↗ · florida.plantatlas.usf.edu ↗