রুইবস (লাল ঝোপের চা) কোথা থেকে এসেছে?
রুইবস এসেছে দক্ষিণ আফ্রিকার ওয়েস্টার্ন কেপের সেডারবার্গ পাহাড় থেকে। আফ্রিকান্সে এর নামের মানে ‘লাল ঝোপ’, আর এই গুল্মের সুচের মতো পাতা থেকে তৈরি হয় ক্যাফেইনমুক্ত লাল পানীয়, যা আজ সারা বিশ্বে পান করা হয়।
সেডারবার্গের এক গুল্ম
রুইবস, Aspalathus linearis, মটর পরিবারের ঝাঁটার মতো এক গুল্ম, কেপের ‘সূক্ষ্ম ঝোপ’ উদ্ভিদজগৎ ফিনবসের অংশ। এর আদি নিবাস কেপ টাউনের উত্তরে সেডারবার্গের ছোট্ট এক এলাকা, যেখানে গ্রীষ্ম গরম ও শুকনো আর শীত ভেজা। এটি জন্মায় সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে 200 থেকে 1,000 মিটার উচ্চতায়, আর জলের নাগাল পেতে শিকড় পাঠায় দুই মিটার বা তারও বেশি গভীরে। আপন মনে বাড়তে দিলে এটি 1.5 মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়।
পাহাড়ি ঢাল থেকে খামারে
রুইবস চায়ের প্রাচীনতম লিখিত উল্লেখ 19 শতকের শেষ দিকের, সেডারবার্গের খোই-বংশোদ্ভূত মানুষের প্রথাগত পানীয় হিসেবে। তাঁরা পাহাড়ে চড়ে বুনো গাছ থেকে পাতা কেটে আনতেন আর কাঠের মুগুর বা হাতুড়ি দিয়ে পেটাতেন। 1904 সালে চা-ব্যবসায়ী পরিবারের রুশ অভিবাসী বেঞ্জামিন গিন্সবার্গ এর কারবার শুরু করেন, আর পরে বিদেশে এটি বিক্রি করেন ‘মাউন্টেন টি’ নামে। 1930 সাল থেকে ক্ল্যানউইলিয়ামের চিকিৎসক পিটার লে ফ্রাস নর্টিয়ে বীজ থেকে এটি ফলানোর কৌশল বের করেন, আর বুনো ফসল সংগ্রহের জায়গা নেয় খামার।
কেন বলা হয় চীন
রুইবস তৈরি হয় অনেকটা চায়ের মতোই, আর দক্ষিণাঞ্চলীয় আফ্রিকার বাইরে একে প্রায়ই বলা হয় রেড টি বা রেডবুশ টি। গিন্সবার্গ এর প্রক্রিয়াকরণের আদর্শ হিসেবে নিয়েছিলেন চীনা কালো চা কিমুন তৈরির পদ্ধতি, পিপেতে পাতা গাঁজিয়ে। আজ কাটা পাতাগুলো থেঁতলে স্তূপ করে জারিত হতে দেওয়া হয়, তারপর রোদে শুকানো হয়, আর তাতে সেগুলো সবুজ থেকে লাল হয়ে যায়। কিন্তু রুইবস চা গাছ Camellia sinensis-এর কোনো আত্মীয় নয়।
সূত্র: en.wikipedia.org ↗ · wipo.int ↗