বাগানের জেরানিয়াম (পেলারগোনিয়াম) কোথা থেকে এসেছে?
বাগানের জেরানিয়াম এসেছে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ অঞ্চল থেকে। উদ্ভিদবিদ্যার হিসাবে এটি একটি পেলারগোনিয়াম, ওয়েস্টার্ন ও ইস্টার্ন কেপের দুটি বুনো গুল্মের সংকর, আর জানালা ও বারান্দার জন্য টবে বিক্রি হওয়া সবচেয়ে সাধারণ ‘জেরানিয়াম’ আজ এটিই।
কেপ থেকে লাইডেন
পেলারগোনিয়াম উদ্ভিদের এক বড় গণ, আর এর প্রায় 90% প্রজাতি জন্মায় আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলে। চাষ করা প্রথম জানা প্রজাতি, Pelargonium triste, সম্ভবত 1600 সালের আগে উত্তমাশা অন্তরীপে থামা জাহাজে করে লাইডেনের উদ্ভিদ উদ্যানে পৌঁছায়। 1631 সালে ইংরেজ মালি জ্যেষ্ঠ জন ট্রেডেস্ক্যান্ট প্যারিসে এর বীজ কিনে ইংল্যান্ডে নিয়ে আসেন। 1724 সালের মধ্যে আরও কয়েকটি প্রজাতি ইউরোপে পৌঁছে যায়, যার মধ্যে ছিল বাগানের জেরানিয়ামের দুই জনকই।
দুই বুনো জনক
Pelargonium zonale, যার কাছ থেকে সংকরগুলোর পাতায় এসেছে গাঢ় বলয়, 1689 সালে ওয়েস্টার্ন কেপ থেকে সংগ্রহ করা হয়, আর ডাচ উদ্ভিদবিদ ইয়ান কোমেলাইন এর বিবরণ দেন। Pelargonium inquinans, ইস্টার্ন কেপ ও দক্ষিণ কোয়াজুলু-নাটালের এক গুল্ম, 18 শতকের গোড়ায় চাষ করেন লন্ডনের বিশপ হেনরি কম্পটন, আর এটিই সংকরগুলোকে দেয় টকটকে লাল রং। মালিরা এক শতকেরও বেশি সময় ধরে দুটির সংকরায়ণ ও বাছাই চালান, আর মার্কিন উদ্ভিদবিদ লিবার্টি হাইড বেইলি ফলটির নাম দেন Pelargonium × hortorum, অর্থাৎ ‘বাগানের’।
কেন ভূমধ্যসাগরের কথা মনে আসে
রোদেলা বারান্দার লাল ‘জেরানিয়াম’ দেখে দক্ষিণ ইউরোপের গাছ মনে হয়, আর নামও ইউরোপের দিকে ইঙ্গিত করে। লিনিয়াস কেপের গাছগুলোকে আসল জেরানিয়ামের দলে রাখেন, যাদের নাম সারস (ক্রেন) পাখির নামে, আর যারা মূলত নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের গাছ, শীতে যাদের মাটির ওপরের অংশ মরে যায়। 1789 সালে শার্ল লুই লেরিতিয়ে দ্য ব্রুতেল এদের আলাদা গণ দেন, Pelargonium, গ্রিক ভাষায় ‘মানিকজোড়’ (স্টর্ক) শব্দ থেকে, কারণ বীজের মাথাটি দেখতে মানিকজোড়ের ঠোঁটের মতো। মালিরা এদের জেরানিয়ামই বলে চলেন, কিন্তু পেলারগোনিয়াম সইতে পারে কেবল হালকা হিম।
সূত্র: en.wikipedia.org › Pelargonium × hortorum ↗ · en.wikipedia.org › Pelargonium ↗ · pza.sanbi.org ↗ · ars.usda.gov ↗