বার্ড-অব-প্যারাডাইস ফুল (Strelitzia) কোথা থেকে এসেছে?
বার্ড-অব-প্যারাডাইস ফুল এসেছে দক্ষিণ আফ্রিকার পূর্ব উপকূল থেকে, ইস্টার্ন কেপ আর কোয়াজুলু-নাটালের মাঝখান থেকে। পাখির মাথার মতো দেখতে এক খোল থেকে বেরিয়ে আসা এর কমলা-নীল ফুলের কারণে এটি হয়ে উঠেছে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় বাগান ও টবের গাছ।
দক্ষিণ আফ্রিকার উপকূলে বুনো
Strelitzia reginae বুনো জন্মায় কেবল দক্ষিণ আফ্রিকায়, হিউম্যান্সডর্প থেকে উত্তর কোয়াজুলু-নাটাল পর্যন্ত পূর্ব উপকূল ধরে, উপকূলের ঝোপঝাড় আর গুল্মবনে এবং নদীর পাড়ে। দক্ষিণ আফ্রিকায় একে বলা হয় ক্রেন ফ্লাওয়ার, বা নগুনি ভাষাগুলোতে isigude। প্রতিটি ফুলের ডাঁটার মাথায় থাকে শক্ত, ঠোঁটের মতো এক খোল, স্প্যাথ, যা থেকে একের পর এক চার থেকে ছয়টি ফুল বেরিয়ে আসে; প্রতিটিতে তিনটি কমলা বৃত্যংশ আর তিনটি নীল বা বেগুনি পাপড়ি।
পাখির বসার দাঁড়
ফুলটি যেন পাখিদের জন্যই গড়া। স্প্যাথ হয়ে ওঠে মজবুত এক দাঁড়, আর দুটি নীল পাপড়ি জুড়ে তৈরি হয় তিরের আকারের এক মধুকোষ। প্রচলিত বিবরণ বলে, মৌটুসি পাখি মধু খেতে বসলে তৃতীয় পাপড়িটি খুলে পরাগধানী বের করে দেয় আর পাখির পায়ে পরাগ মাখিয়ে দেয়; ধারণা করা হয়, এটিই একমাত্র গণ, যার পরাগায়ন হয় পাখির পায়ের মাধ্যমে। দক্ষিণ আফ্রিকার জাতীয় জীববৈচিত্র্য ইনস্টিটিউট অবশ্য আরও সাবধানী: মৌটুসির মাধ্যমে পরাগায়ন এখনো প্রমাণিত হয়নি, আর মৌটুসিকে পরাগ এড়িয়ে মধু খেতেও দেখা গেছে।
কেন হাওয়াইয়ের কথা বলা হয়
এর ঝলমলে রূপ দেখে মনে হয় যেন কোনো ক্রান্তীয় দ্বীপের জন্যই তৈরি, কিন্তু গাছটি দক্ষিণ আফ্রিকার। এটি ব্রিটেনে আসে 1773 সালে, যখন কিউয়ের রয়্যাল বোটানিক গার্ডেনসে এর চাষ হয়। জোসেফ ব্যাংকস গণটির নাম রাখেন Strelitzia, রাজা তৃতীয় জর্জের স্ত্রী রানি শার্লটের নামে, যিনি এসেছিলেন মেকলেনবার্গ-স্ট্রেলিৎস রাজবংশ থেকে, আর 1788 সালে এই প্রজাতিটির বর্ণনা দেন reginae নামে, মানে ‘রানির’। তারপর থেকে এটি লাগানো হয়েছে বিশ্বের রোদ ঝলমলে, উষ্ণ নানা জায়গায়, আমেরিকা মহাদেশ আর অস্ট্রেলিয়াসহ।
সূত্র: en.wikipedia.org › Strelitzia reginae ↗ · en.wikipedia.org › Strelitzia ↗ · pza.sanbi.org ↗