নাভাহো গায়ে-জড়ানো কম্বল কোথা থেকে এসেছে?
নাভাহো গায়ে-জড়ানো কম্বল এসেছে আজকের অ্যারিজোনা ও নিউ মেক্সিকোর ফোর কর্নার্সের আশপাশের নাভাহো আদিভূমি থেকে। মেঝের গালিচা বোনার অনেক আগে নাভাহো তাঁতিরা গায়ে দেওয়ার জন্য উলের ডোরাকাটা কম্বল বুনতেন, আর গ্রেট প্লেইনসের জনগোষ্ঠীরা এগুলোর খুব কদর করত।
উল, তাঁত আর ডোরা
নাভাহোরা হয়তো বুনন শিখেছিলেন প্রতিবেশী পুয়েবলো জনগোষ্ঠীর কাছ থেকে। স্প্যানিশ নথি বলছে, 17 শতকের শেষ দিক থেকে তাঁরা ভেড়া চরাতেন আর উলের কম্বল বুনতেন, আর 1860-এর দশক পর্যন্ত তাঁদের চুরো ভেড়ার হাতে কাটা উলই ছিল প্রধান সুতো। তাঁতিরা, যাঁদের প্রায় সবাই নারী, কাজ করতেন সাদামাটা খাড়া তাঁতে। 19 শতকের মাঝামাঝির আগে রং ছিল মূলত প্রাকৃতিক বাদামি, সাদা আর নীল। টিকে থাকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রথম দিকের কম্বলগুলো পাওয়া গেছে অ্যারিজোনার ক্যানিয়ন দে শেইয়ের এক গুহায়, আর সেগুলোর বেশির ভাগে সাদামাটা ডোরা।
সমভূমিতে কদর
19 শতকের মাঝামাঝি নাগাদ নাভাহোদের গায়ে-জড়ানো কম্বল হয়ে ওঠে বাণিজ্যের পণ্য, যার কদর করত গ্রেট প্লেইনসের জনগোষ্ঠী ও তাদের প্রতিবেশীরা। 1822 সালে সান্তা ফে ট্রেইল খোলার পর বাণিজ্য বাড়ে, আর 1850 সালে একটি কম্বল বিক্রি হয় সোনায় 50 ডলারে, সেকালে যা বিপুল অঙ্ক। 1880 সাল পর্যন্ত এমন প্রতিটি বোনা কাপড়ই ছিল কম্বল, গালিচা নয়। তারপর 1880-এর দশকের গোড়ায় রেলপথ নাভাহো ভূমিতে পৌঁছায়। ব্যবসায়ীরা হাতে বোনা গালিচার বাজার গড়ে তোলেন, আর 1900 সালের মধ্যে কারখানায় তৈরি কম্বল বোনা কম্বলের চাহিদা কমিয়ে দেয়।
কেন মেক্সিকোর কথা মনে আসে
এই কাহিনির সবখানে স্প্যানিশ প্রভাব। স্প্যানিশরা 1540 সাল থেকে মেক্সিকো থেকে উত্তরে এই অঞ্চলে এগোয় আর 1598 সালে চুরো ভেড়া নিয়ে আসে, আর নাভাহো বুননের প্রথম লিখিত প্রশংসা মেলে 18 শতকের গোড়ার স্প্যানিশ ঔপনিবেশিক নথিতে। 1864 সাল থেকে মার্কিন সরকার নাভাহোদের নিউ মেক্সিকোর বস্কে রেদোন্দোয় আটকে রাখে, যেখানে তাঁতিরা রিও গ্রান্দে অঞ্চলের স্প্যানিশ-আমেরিকান বস্ত্রের সংস্পর্শে আসেন আর নতুন নকশা গ্রহণ করেন। কিন্তু গায়ে-জড়ানো কম্বল বুনেছিলেন নাভাহো নারীরা, নিজেদের আদিভূমিতেই।
সূত্র: en.wikipedia.org ↗ · lowe.miami.edu ↗