Whence
তাইকো দলগত বাদন (কুমি-দাইকো)
সংগীত ও নৃত্য

তাইকো দলগত বাদন (কুমি-দাইকো) কোথা থেকে এসেছে?

তাইকো দলগত বাদন, বা কুমি-দাইকো, এসেছে মধ্য জাপানের নাগানো প্রিফেকচার থেকে। তাইকো ঢোল বহু শতাব্দী পুরোনো, কিন্তু নানা মাপের ঢোল একসঙ্গে বাজানো দলের শুরু 1951 সালে, সাবেক জ্যাজ ড্রামার দাইহাচি ওগুচি আর তাঁর দল ওসুওয়া দাইকোর হাতে।

এক জ্যাজ ড্রামারের ভাবনা

ওগুচি নাগানোতে জ্যাজ ড্রামার হিসেবে তালিম নিয়েছিলেন। এক আত্মীয় তাঁকে তাইকো সংগীতের একটি পুরোনো লিখিত রচনা দেন, যার স্বরলিপি তিনি পড়তে পারতেন না। অন্যের সাহায্যে তিনি তার পাঠোদ্ধার করেন, কিন্তু একজন জ্যাজ বাদকের কাছে ছন্দটি বড্ড সাদামাটা ঠেকে। তাই তিনি রচনাটি কয়েকজন ঢোলবাদকের মধ্যে ভাগ করে দেন, প্রত্যেকে আলাদা তাইকোয়, পশ্চিমা ড্রাম কিটের অংশগুলোর মতো: উঁচু সুরের শিমে-দাইকো স্নেয়ার ড্রামের মতো লয় ধরে রাখত, মাঝারি ঢোলগুলো বইত সুর, আর বড় ওদাইকো ঠিক করত স্পন্দন।

ওকায়া থেকে বিশ্বে

ওগুচি 1951 সালে নাগানো প্রিফেকচারের ওকায়ায় ওসুওয়া দাইকো প্রতিষ্ঠা করেন। এর প্রথম দিকের অনেক বাদক পেশাদার সংগীতশিল্পী ছিলেন না, আর শুরুতে তাঁরা বাজাতেন সরাইখানা আর হোটেলে। টেলিভিশন তাঁদের পরিচিত করে তোলে, আর 1964 সালের টোকিও অলিম্পিকে দলগত তাইকো পৌঁছায় বিশ্বের দর্শকের কাছে। ওগুচি বিদেশেও দল গড়তে সাহায্য করেন, যার মধ্যে ছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম দল সান ফ্রান্সিসকো তাইকো দোজো, যা 1968 সালে গড়েন সেইচি তানাকা। 1998 সালে নাগানো অলিম্পিকের সমাপনী অনুষ্ঠানে ঢোলবাদনের নেতৃত্ব দেন ওগুচি।

কেন টোকিও বা কিয়োটোর কথা মনে আসে

তাইকো ঢোলের ইতিহাস সত্যিই দীর্ঘ। প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ বলছে, 6 শতকের মধ্যেই জাপানে ঢোল ছিল, আর চীন ও কোরিয়া হয়ে আসা দরবারি সংগীত গাগাকুতে ব্যবহৃত হয় ছোট কাক্কো আর বিশাল দাদাইকোর মতো ঢোল; গাগাকু আজও টোকিওর রাজপ্রাসাদে পরিবেশিত হয়। শতকের পর শতক ধরে তাইকো কাজে লেগেছে উৎসব, নাট্যমঞ্চ আর যুদ্ধেও। কিন্তু কনসার্ট মঞ্চের ঢোলের দল নবীন: ওগুচি 1951 সালে সেই পুরোনো ঐতিহ্যগুলো থেকেই এটি গড়ে তোলেন।

সূত্র: en.wikipedia.org › Taiko ↗ · en.wikipedia.org › Daihachi Oguchi ↗ · en.wikipedia.org › Osuwa Daiko ↗ · inquirer.com ↗

আরও সংগীত ও নৃত্য

ব্যান্ডোনিয়ন
সংগীত ও নৃত্য

ব্যান্ডোনিয়ন

📍 জার্মানি (ক্রেফেল্ড ও খেমনিৎস)

ট্যাঙ্গোর পরিচয়বাহী বাদ্যযন্ত্রটি জার্মান। ক্রেফেল্ডের বাদ্যযন্ত্র-বিক্রেতা হাইনরিখ বান্ড ঊনবিংশ শতকের মাঝামাঝি কনসার্টিনা থেকে ব্যান্ডোনিয়ন গড়ে তোলেন, আর পরে অভিবাসী ও নাবিকেরা এটি নিয়ে যান বুয়েনোস আইরেস ও মন্টেভিডিওতে।

তবলা (হাতে বাজানো জোড়া ঢোল)
সংগীত ও নৃত্য

তবলা (হাতে বাজানো জোড়া ঢোল)

📍 উত্তর ভারত (দিল্লির আশেপাশে)

তবলা, হাতে বাজানো এক জোড়া ঢোল, রূপ পায় অষ্টাদশ শতকে উত্তর ভারতে; এর প্রথম জানা ওস্তাদ সিদ্ধার খাঁ বাজাতেন দিল্লিতে। প্রতিটি ছাউনির কালো গোলটি, সিয়াহি (‘কালি’), ভাতের মণ্ড আর কালো গুঁড়োর স্তরে গড়া, যার গুণে ঢোল দুটি সুরেলা গেয়ে ওঠে।

আংক্লুং (বাঁশের ঝাঁকানো বাদ্যযন্ত্র)
সংগীত ও নৃত্য

আংক্লুং (বাঁশের ঝাঁকানো বাদ্যযন্ত্র)

📍 পশ্চিম জাভা (সুন্দানি অঞ্চল), ইন্দোনেশিয়া

প্রতিটি বাঁশের আংক্লুং ঝাঁকালে একটিই সুর দেয়, তাই একটি গান বাজাতে লাগে পুরো একদল বাদক। সুন্দানিরা বহু শতক ধরে এটি বাজিয়ে আসছে; 1938 সালে বান্দুংয়ের দায়েং সুতিগনা পশ্চিমা স্কেলে বাঁধা একটি বানান।

এশিয়া থেকে আরও গল্প

আপেল
খাবার

আপেল

📍 তিয়েন শান, মধ্য এশিয়া

আপেলের বুনো পূর্বপুরুষ Malus sieversii আজও মধ্য এশিয়ার তিয়েন শান পর্বতে জন্মায়। সেখানেই প্রথম আপেলের চাষ শুরু হয়, তারপর রেশম পথ ধরে তা ইউরোপে পৌঁছায়।

Yogurt (ইংরেজি শব্দ)
শব্দ

Yogurt (ইংরেজি শব্দ)

📍 আনাতোলিয়া ও ইস্তাম্বুল (অটোমান তুরস্ক)

Yogurt এসেছে অটোমান তুর্কি yoğurt থেকে, যার মূলের মানে ‘ঘন করা’। 1620-এর দশকের মধ্যেই ইংরেজিতে এটি লেখা হচ্ছিল ‘yughurd’, আর বানান এখনও yogurt আর yoghurt-এর মধ্যে দোদুল্যমান।

গৃহপালিত ছাগল
প্রাণী

গৃহপালিত ছাগল

📍 উর্বর অর্ধচন্দ্র (জাগ্রোস ও টরাস পর্বতমালা)

প্রায় 10,000 বছর আগে উর্বর অর্ধচন্দ্রের পাহাড়ি এলাকায় ছাগলকে পোষ মানানো হয়। জানা প্রাচীনতম পালিত ছাগলের নিদর্শন পাওয়া গেছে ইরানের জাগ্রোস পর্বতমালার গাঞ্জ দারেহ-তে, যেখানে এদের বুনো পূর্বপুরুষ বেজোয়ার আইবেক্স আজও বাস করে।