জিঙ্কগো গাছ কোথা থেকে এসেছে?
জিঙ্কগো এসেছে চীন থেকে, যেখানে পাহাড়ি আশ্রয়স্থলে এর কয়েকটি জনসংখ্যা আজও টিকে আছে, যেগুলো হয়তো সত্যিই বুনো। এটি গাছের এক প্রাচীন গোষ্ঠীর শেষ জীবিত প্রজাতি, আর মানুষ একে চীন থেকে নিয়ে গেছে সারা বিশ্বের শহরের রাস্তায়।
এক জীবন্ত জীবাশ্ম
আজকের জিঙ্কগোর সঙ্গে খুব মিল আছে এমন জীবাশ্ম প্রায় 17 কোটি বছর পুরোনো, জুরাসিক যুগের, আর মধ্য চীনের এক কয়লাখনি থেকে পাওয়া কিছু জীবাশ্মে দেখা যায় জিঙ্কগো-সদৃশ গাছ, যাদের পাতার আকারে সামান্যই তফাত। গোষ্ঠীটি ধীরে ধীরে ক্ষয়ে আসে, হয়তো সপুষ্পক উদ্ভিদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় হেরে, আর জলবায়ু শীতল হতে থাকলে উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপ থেকে জিঙ্কগো হারিয়ে যায়। প্রায় 11,000 বছর আগে, শেষ হিমযুগের শেষে, টিকে থাকা গাছগুলো সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে চীনে। আজ Ginkgo biloba তার গোত্রের একমাত্র জীবিত প্রজাতি।
মানুষের হাতে রক্ষা
শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মনে করা হতো, বুনো অবস্থায় জিঙ্কগো বিলুপ্ত। জিঙ্কগো-বিশেষজ্ঞ পিটার ক্রেনের মতে, চীনের মানুষ হয়তো প্রায় 1,000 বছর আগে এটি লাগাতে শুরু করে, সম্ভবত এর খাওয়ার উপযোগী বীজের জন্য, আর কিছু চীনা পণ্ডিতের ধারণা, ভিক্ষুরা অনেক পুরোনো গাছ লাগিয়েছেন ও রক্ষা করেছেন। 2012 সালে গবেষকেরা দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের দালৌ পর্বতে একটি বুনো জনসংখ্যার প্রমাণের কথা জানান, আর পূর্বে তিয়ানমু পর্বতে আছে ‘আধা-বুনো’ গাছের কুঞ্জ। IUCN প্রজাতিটিকে বুনো অবস্থায় বিপন্ন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।
কেন জাপানের কথা মনে আসে
জাপানে 14 শতক থেকে জিঙ্কগো ব্যাপকভাবে লাগানো হয়েছে, টোকিওর প্রতীক জিঙ্কগো পাতার আকারের, আর 1996 সালে শহরটি জিঙ্কগোকে তার সরকারি গাছ ঘোষণা করে। গাছটির নামও এসেছে জাপান হয়ে। জার্মান প্রকৃতিবিদ এঙ্গেলবার্ট কেম্পফার, পশ্চিমাদের মধ্যে যিনি প্রথম এটি নিয়ে গবেষণা করেন, 1690 সালে জাপানি মন্দিরের বাগানে গাছটি দেখেন আর এর নাম ginkyō, অর্থাৎ ‘রুপালি অ্যাপ্রিকট’, লিখে রাখেন তাঁর নাগাসাকির দোভাষীর ব্যবহার করা ‘ginkgo’ বানানে। তবু টোকিওর নিজের সরকারই জিঙ্কগোকে চীনের আদি গাছ বলে বর্ণনা করে।
সূত্র: en.wikipedia.org ↗ · nationalgeographic.com ↗ · english.metro.tokyo.lg.jp ↗