লাকি বাঁশ কোথা থেকে এসেছে?
লাকি বাঁশ এসেছে মধ্য আফ্রিকার রেইনফরেস্ট থেকে, ক্যামেরুন থেকে কঙ্গো পর্যন্ত। নামে বাঁশ থাকলেও এটি বাঁশ নয়, আর ‘চাইনিজ ওয়াটার বাম্বু’-র মতো ডাকনাম সত্ত্বেও এটি চীনেরও নয়: এটি ড্রাসিনা, শতমূলী পরিবারের সদস্য।
রেইনফরেস্টের এক ড্রাসিনা
কিউ-এর World Checklist of Vascular Plants অনুযায়ী Dracaena sanderiana বুনো জন্মায় ক্যামেরুন, গ্যাবন, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র আর অ্যাঙ্গোলায়। এটি প্রায় এক মিটার লম্বা বহুবর্ষজীবী গাছ; এর সামান্য মোচড়ানো ধূসর-সবুজ পাতা প্রায় 23 সেমি লম্বা, আর ফোটে ছোট সাদা ফুলের থোকা। এটি পছন্দ করে উজ্জ্বল কিন্তু ছাঁকা আলো, রেইনফরেস্টের চাঁদোয়ার নিচের আলোর মতো; সরাসরি রোদে এর পাতা পুড়ে যায়।
আদৌ বাঁশ নয়
এর কাণ্ড দেখতে বাঁশের মতো, কিন্তু তা রসালো, আর গাছটি আসল বাঁশ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা এক বর্গের; দুটির মিল কেবল একবীজপত্রী নামের বড় গোষ্ঠীতে। ঘরের ভেতরে এটি ছোটখাটো থাকে আর ওপরের দিকে বাড়ে, বাঁশের চেহারা ধরে রাখে, কিন্তু মাটিতে লাগালে সেই চেহারা হারিয়ে অন্য ড্রাগন ট্রির মতো ঝোপালো হয়ে ওঠে। চাষিরা কাণ্ডগুলোকে বেণি আর প্যাঁচানো আকারে গড়ে তোলেন, আর নতুন গাছ জন্মায় গাঁটের, মানে কাণ্ডের আংটির মতো দাগগুলোর একটির, ঠিক ওপর থেকে কাটা অংশ থেকে।
কেন বলা হয় চীন
এর বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক নাম শুনতে চীনা, যেমন চাইনিজ ওয়াটার বাম্বু, আর এটি বিক্রি হয় ফ্রেন্ডশিপ বাম্বু, কার্লি বাম্বু, এমনকি বেলজিয়ান এভারগ্রিন নামেও। তবু চীন বা বেলজিয়াম কোনোটিই এর জন্মভূমি নয়। এর বৈজ্ঞানিক নাম সম্মান জানায় হেনরি ফ্রেডেরিক কনরাড স্যান্ডারকে (1847–1920), জার্মান-জাত এক নার্সারি ব্যবসায়ী ও অর্কিড চাষি, যিনি বসতি গড়েছিলেন ইংল্যান্ডের সেন্ট অ্যালবান্সে। গাছটি নিজে আফ্রিকার, ক্যামেরুন আর কঙ্গো অববাহিকার মাঝের বনের।
সূত্র: en.wikipedia.org › Dracaena sanderiana ↗ · plants.ces.ncsu.edu ↗ · gbif.org ↗ · en.wikipedia.org › Henry Frederick Conrad Sander ↗