জাকারান্ডা গাছ কোথা থেকে এসেছে?
জাকারান্ডা এসেছে দক্ষিণ-মধ্য দক্ষিণ আমেরিকা থেকে: দক্ষিণ বলিভিয়া, প্যারাগুয়ে আর উত্তর আর্জেন্টিনা থেকে ব্রাজিল আর উরুগুয়ের প্রান্ত পর্যন্ত। এর বেগুনি ফুল আজ কয়েকটি মহাদেশের শহরের রাস্তা রাঙায়, অথচ বুনো অবস্থায় প্রজাতিটি ‘সংকটাপন্ন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত।
চাকো আর আন্দিজে বুনো
Jacaranda mimosifolia বুনো জন্মায় শুকনো চাকো আর তার প্লাবিত সাভানায়, আর দক্ষিণ আন্দিয়ান ইউঙ্গাসে, অর্থাৎ পূর্ব আন্দিজের পাদদেশ আর উপত্যকার বনে, 2,600 মিটার পর্যন্ত উচ্চতায়। এটি 20 মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়, পাতা ফার্নের মতো, 45 সেমি পর্যন্ত লম্বা, আর ফুল থাকে দুই মাস পর্যন্ত। নিজের আদি এলাকায় এটি অনিয়ন্ত্রিত গাছ কাটা আর চাষের জন্য জমি সাফ করার হুমকিতে আছে, আর IUCN লাল তালিকা একে ‘সংকটাপন্ন’ হিসেবে মূল্যায়ন করে।
হিম যেখানে বিরল, সেখানেই লাগানো
উদ্যানপালকেরা গাছটিকে নিয়ে গেছেন পৃথিবীর প্রায় সব হিমমুক্ত অঞ্চলে। ব্যারন ফন লুডভিগ একে দক্ষিণ আফ্রিকায় আনেন প্রায় 1829 সালে, যখন কেপ টাউনে একটি উদ্ভিদ উদ্যান গড়ে উঠছিল। সিডনিতে প্রথম জাকারান্ডা ফোটে প্রায় 1850 সালে, আর ব্রিসবেনে প্রথমটি আসে 1864 সালে। সান দিয়েগোতে একে জনপ্রিয় করার কৃতিত্ব দেওয়া হয় উদ্যানবিদ কেট সেশনসকে, আর আজ এটি জন্মায় লিসবন আর এথেন্স থেকে নাইরোবি আর মেক্সিকো সিটি পর্যন্ত নানা শহরে।
কেন বলা হয় দক্ষিণ আফ্রিকা
প্রিটোরিয়ার ডাকনাম জাকারান্ডা সিটি। এর প্রথম দুটি গাছ ছিল চারা, যা এক ভ্রাম্যমাণ নার্সারি ব্যবসায়ী 1888 সালে বিক্রি করেন ইয়াপি সেলিয়ার্সের কাছে। 1906 সালে বীজ ব্যবসায়ী জেমস ক্লার্ক শহরের বার্ষিকী উপলক্ষে 200টি গাছ দেন, আর শহরের প্রকৌশলী ফ্র্যাংক জেমসন 1909 সাল থেকে আরও অনেক গাছ লাগান। হিসাবগুলো প্রায় 37,000টি রাস্তার গাছ থেকে শুরু করে আশপাশের এলাকাসহ প্রায় 65,000 পর্যন্ত। অস্ট্রেলিয়ারও আছে জাকারান্ডার শহর, কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকা আর কুইন্সল্যান্ডের কিছু অংশে গাছটিকে এখন আগ্রাসী বলে গণ্য করা হয়।
সূত্র: en.wikipedia.org ↗ · theheritageportal.co.za ↗ · etymonline.com ↗